সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬ , ০৩:০০ পিএম
সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল শুনানির জন্য মঙ্গলবার (৭ জুলাই) দিন নির্ধারণ করেছেন আপিল বিভাগ। প্রথমদিনের শুনানি শেষে সোমবার (৬ জুলাই) প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ আদেশ দেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও ড. শরীফ ভূঁইয়া।
এর আগে তৎকালীন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে ছয় বিচারপতির আপিল বেঞ্চ মামলাটির শুনানি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর অনুষ্ঠিত হবে বলে মুলতবির আদেশ দিয়েছিলেন। সেই ধারাবাহিকতায় আপিল বিভাগে মামলাটির শুনানি শুরু হলো। শুনানিকালে পুরো পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিল চেয়ে আবেদন করেছেন রিটকারী সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদারের আইনজীবী।
এর আগে বহুল আলোচিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিলসহ সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীতে আনা কয়েকটি বিষয় অবৈধ ঘোষণা করে রায় দিয়েছিলেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে সংবিধানে গণভোটের বিধান ফিরিয়ে এনেছিলেন আদালত। বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও বিচারপতি দেবাশীষ রায় চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত তৎকালীন হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন। পরে রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপিও প্রকাশ করা হয়।
হাইকোর্ট রায়ের পর্যবেক্ষণে বলেছিলেন, গণতন্ত্র হচ্ছে আমাদের সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশ। এই গণতন্ত্র বিকশিত হয় অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ এবং প্রভাবমুক্ত নির্বাচনের মধ্য দিয়ে। কিন্তু দলীয় সরকারের অধীনে বিগত তিনটি সংসদ নির্বাচনে তাতে জনগণের ইচ্ছার কোনো প্রতিফলন হয়নি। দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচনের আত্মবিশ্বাস জনগণের মধ্যে জন্ম নেয়নি, যার ফলশ্রুতিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান হয়েছে। রায়ে বলা হয়, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা জনগণের অভিপ্রায় অনুযায়ী সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল এবং এটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর অংশে পরিণত হয়েছে।
হাইকোর্টের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্তি সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনী আইনের ২০ ও ২১ অনুচ্ছেদ এবং সংবিধানে যুক্ত ৭ক, ৭খ ও ৪৪ (২) অনুচ্ছেদ সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ও বাতিল ঘোষণা করা হয়। তবে পঞ্চদশ সংশোধনী আইন পুরোটা বাতিল না করে বাকি বিধানগুলোর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার আগামী জাতীয় সংসদের ওপর ছেড়ে দিয়েছিলেন আদালত।
রায়ে বলা হয়, সংসদ আইন অনুসারে জনগণের মতামত নিয়ে বিধানগুলো সংশোধন, পরিমার্জন ও পরিবর্তন করতে পারবে। এর মধ্যে জাতির পিতার স্বীকৃতি ও ২৬ মার্চের ভাষণের মতো বিষয়গুলো রয়েছে। গণভোটের বিষয়ে হাইকোর্ট রায়ে বলেন, সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের গণভোটের বিধান বিলুপ্তি সংক্রান্ত পঞ্চদশ সংশোধনীর ধারাটি সংবিধানের মৌলিক কাঠামোর সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়ায় তা বাতিল করা হলো এবং দ্বাদশ সংশোধনীর ১৪২ অনুচ্ছেদ পুনর্বহাল করা হলো।
হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে পরবর্তীতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে ‘লিভ টু আপিল’ বা আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করা হয়। আপিল আবেদনে পঞ্চদশ সংশোধনীর পুরোটা বাতিল চাওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আপিল বিভাগ আপিলের অনুমতি দিলে সোমবার থেকে চূড়ান্ত শুনানি শুরু হয়। এই মামলায় রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীসহ কয়েকটি দল ও সংগঠনের প্রতিনিধিরা পক্ষভুক্ত হয়ে আইনি লড়াইয়ে অংশ নিচ্ছেন।
আরটিভি/এআর