মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬ , ১১:৪১ পিএম
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় হাতি নিয়ে চাঁদা তোলার সময় ঘটে যাওয়া ইজিবাইক দুর্ঘটনায় ১০ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় জব্দ হওয়া হাতিটি অবশেষে আদালতের নির্দেশে মালিকের কাছে ফিরছে।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় জনতার হাতে আটক হওয়ার পর গত এক সপ্তাহ ধরে হাতিটি সদরপুর থানা হেফাজতে ছিল।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) আদালত এক আদেশে হাতিটিকে তার প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তরের জন্য সদরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন। তবে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত হাতিটি থানার হেফাজতেই ছিল।
জানা গেছে, হাতিটির প্রকৃত মালিক নওগাঁ জেলার বাসিন্দা দুলাল দেওয়ান। তিনি বিভিন্ন স্থানে প্রদর্শনের জন্য একটি সার্কাস দলের কাছে হাতিটি ভাড়ায় দিয়েছিলেন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা হাতি ও মাহুতকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করলে পুলিশ উভয়কে নিজেদের হেফাজতে নেয়।
থানা সূত্রে জানা গেছে, গত সাতদিন ধরে হাতিটির পরিচর্যা ও নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করছেন মালিকের পাঠানো মাহুত নাজমুল সরদার। তিনি নিয়মিত হাতিটিকে গোসল করানো, খাওয়ানো, হাঁটানো এবং সার্বক্ষণিক দেখভালের কাজ করে আসছেন।
এদিকে থানা প্রাঙ্গণে একটি পূর্ণবয়স্ক হাতির খাদ্যের ব্যবস্থা করতে গিয়ে রীতিমতো বেগ পেতে হয়েছে পুলিশকে। প্রতিদিন কলাগাছ, ঘাস ও অন্যান্য খাদ্য সংগ্রহ করতে হয়েছে পুলিশ সদস্য ও মাহুতকে। থানায় হাতির জন্য স্থায়ী খাদ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় পরিচর্যায় অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়। এ সময় থানায় রাখা হাতিটিকে দেখতে প্রতিদিনই উৎসুক মানুষের ভিড় লক্ষ্য করা যায়।
উল্লেখ্য, গত ২৮ জুলাই দুপুরে সদরপুর উপজেলার আটরশি এলাকায় হাতি নিয়ে সড়কে চাঁদা তোলার সময় একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায়। এতে মায়ের সঙ্গে থাকা ১০ মাস বয়সী আরিশা জান্নাত গুরুতর আহত হয়। পরে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার পর ক্ষুব্ধ জনতা মাহুতকে পিটুনি দিয়ে হাতিটিকে আটক করে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মাহুতকে গ্রেপ্তার এবং হাতিটিকে জব্দ করে সদরপুর থানায় নিয়ে যায়। পরদিন জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার মাদারের চর গ্রামের বাসিন্দা ও হাতির মাহুত বকুল মিয়াকে (২৪) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
আরটিভি/এমএইচজে