শুক্রবার, ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২১ , ০৫:২৭ পিএম
চলছে ফেব্রুয়ারির বিশেষ সময়। প্রেমিক-প্রেমিকাদের কাছে দিনগুলো আসলেই বিশেষ। রোজ ডে, প্রপোজ ডে, চকলেট ডে ও প্রমিজ ডে পার করে আজ হাগ ডে (আলিঙ্গন দিবস)। এই আলিঙ্গন থেকেই ধীরে ধীরে ভালোবাসা স্পর্শ করতে থাকে শরীর। আর তাই তো এর পরদিনই আসে কিস ডে (চুম্বনের দিন)। তারপরও প্রশ্ন থেকে যায় কেনো প্রিয় মানুষকে আলিঙ্গন করতে হবে, আর এর উপকারিতাই বা কী?
প্রিয় মানুষকে জড়িয়ে ধরার বা আলিঙ্গনের এই ব্যাপারটা কিন্তু খুব সোজা নয়। নিবিড়ে দুজনার আলিঙ্গনের মধ্যে হাজারও না বলা কথা লুকিয়ে থাকে। প্রেমিক বা প্রেমিকারা আলিঙ্গনের পর তাদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা আগের থেকে অনেক বৃদ্ধি পায়। প্রিয় মানুষকে আলিঙ্গনের ভালো দিকগুলো জেনে নিতে পারেন-
উচ্চ রক্তচাপ কমায় : শুনতে অবাক লাগলেও সত্যি যে প্রিয় মানুষকে আলিঙ্গনের ফলে উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা হ্রাস পায়। ইউনিভার্সিটি অব নর্থ ক্যারোলিনার এক সমীক্ষা প্রমাণ করেছে, মধুর আলিঙ্গনে অক্সিটোসিন নামের এক প্রকার হরমোনের ক্ষরণ বেশি মাত্রায় হয় এবং এতে করে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে।
ঘুমে সাহায্য : অনেকে স্বপ্নে ভালোবাসার মানুষকে আলিঙ্গনে খুঁজে পান। ন্যাশনাল স্লিপ ফাউন্ডেশন বলছে ঘুমানোর আগে যদি প্রিয় মানুষকে অল্প সময়ের জন্য হলেও নিবিড় আলিঙ্গনে রাখা যায়, তাহলে সেই আলিঙ্গন নাকি গভীর ঘুম আনতে সহায়তা করে। আর প্রাণশক্তি বাড়াতে ভালো ঘুমের বিকল্প কিছু নেই।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি : সাইকোলজিক্যাল সায়েন্সের এক সমীক্ষা বলছে, নিবিড় আলিঙ্গনের সঙ্গে কর্টিসল নামের এক প্রকার হরমোনের ক্ষরণের সম্পৃক্ততা রয়েছে। কর্টিসল হরমোনের অতিরিক্ত ক্ষরণের ফলে ক্লান্ত হয়ে পড়ে শরীর, এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাস পেতে থাকে। কিন্তু নিবিড় আলিঙ্গনের ফলে হরমোনের ক্ষরণ কমে আসে এবং এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
হৃদস্পন্দন ঠিক রাখে: আলিঙ্গনের সময় অক্সিটোসিন নামে হরমোনের ক্ষরণে হৃদস্পন্দনের দ্রুত হার কমে আসে এবং এর জন্য হৃদস্পন্দনের দ্রুত হার স্বাভাবিক সীমায় চলে আসে। ফলে শরীর শান্ত ও ভালো থাকে।
এসব ভালো দিকের কথা যদি বাদও দেয়া হয় তারপরও কিন্তু প্রিয় মানুষকে আলিঙ্গন বা নিবিড় স্পর্শ আমরা সবাই উপভোগ করি। এর মধ্যে অনেক ভালো লাগা অনুভূতিও কাজ করে। এমনকি দুঃসময়ে ভরসা জোগায়। তাই এসব মাথায় রেখে হলেও প্রিয় মানুষকে আলিঙ্গন করার প্রয়োজন রয়েছে। সূত্র : নিউজ এইটিন
এসআর/পি