সোমবার, ০৩ মার্চ ২০২৫ , ০৪:০৫ পিএম
বাংলাদেশে রমজান মাস মানেই ভিন্ন এক পরিবেশ। ফুটন্ত তেলে পেঁয়াজু ভাজার শব্দ, রাস্তার ধারে দোকানিদের 'গরম জিলাপি' বিক্রির ডাক—সব মিলিয়ে এক অনন্য অনুভূতি তৈরি হয়।
এই সময়েই আসে মুড়ি মাখার প্রসঙ্গ। ইফতারের টেবিলে আলুর চপ, বেগুনি, পেঁয়াজুর মাঝে নীরবে জায়গা করে নেয় মুড়ি মাখা। সরিষার তেল, পেঁয়াজ, কাঁচা মরিচ আর ছোলার সংমিশ্রণে তৈরি এই খাবারটি সহজ ও সুস্বাদু। কিন্তু বিতর্কের মূল বিষয় হলো, মুড়িমাখায় জিলাপি মেশানো উচিত কিনা।
মুড়ি মাখার ঐতিহ্য
প্রাচীনকাল থেকেই মুড়ি ছিল জনপ্রিয় একটি খাবার, কারণ এটি হালকা ও সহজপাচ্য। অপরদিকে, জিলাপি এসেছে মোঘল আমলে, পারস্যের ব্যবসায়ীদের হাত ধরে। পেঁয়াজু, বেগুনি ও আলুর চপও আমাদের খাবারের অংশ হয়ে উঠেছে বিভিন্ন ঐতিহাসিক প্রভাবের মাধ্যমে। কিন্তু ইফতারের মুড়ি মাখার মধ্যে জিলাপি মেশানো নিয়ে মতভেদ রয়েছে।
জিলাপিবিরোধীদের যুক্তি
জিলাপি ছাড়াই যুগ যুগ ধরে ঐতিহ্যবাহী মুড়ি মাখানো টিকে আছে। তাদের মতে, এটা অনেকটা বিরিয়ানির ওপর শরবত ঢালার মতো অযৌক্তিক বিষয়। কিছু জিনিস একটি আরেকটি সঙ্গে মেশানোর জন্য তৈরি হয় না।
জিলাপিপ্রেমীদের যুক্তি
তাদের যুক্তিও বাস্তবসম্মত ধরে নেওয়া যায়। ইফতারের সময় কত কাজ থাকে, কত প্লেট ভর্তি করে খাবার দিতে হয়, কতকিছুর দিকে নজর রাখতে হয়। মুড়ি মাখার মধ্যে জিলাপি দিলেই তো কাজ সহজ হয়ে যায়, তাহলে এটা করতে সমস্যা কোথায়।
জিলাপি মেশানো হবে কি না, তা একান্তই ব্যক্তিগত পছন্দের বিষয়। কেউ বৈচিত্র্য পছন্দ করেন, কেউ ঐতিহ্য রক্ষা করতে চান। তবে ইফতারের আসল সৌন্দর্য মিলেমিশে খাওয়ায়। তাই, কারো অনুমতি ছাড়া তার মুড়ি মাখায় জিলাপি মেশানোর আগে দুবার ভাববেন। নয়তো খাবার নিয়ে রীতিমতো যুদ্ধ বেধে যেতে পারে।
আরটিভি/জেএম