বুধবার, ০৯ জুলাই ২০২৫ , ০২:৪৯ পিএম
আকাশে মেঘ, চারদিকে রিমঝিম বৃষ্টি। জানালার পাশে বসে হালকা বাতাসের ছোঁয়া গায়ে মেখে যে দৃশ্যটি অনেক বাঙালির মনে ভেসে ওঠে, তা হলো এক প্লেট গরম খিচুড়ি। সঙ্গে বেগুন ভাজা, ডিমের অমলেট, ইলিশ ভাজা বা গরুর মাংস থাকলে তো কথাই নেই। একটুখানি ভর্তা, একটু ঘি বা আচার—এই আবহে খিচুড়ি যেন হয়ে ওঠে পরিপূর্ণ এক আবেগের নাম।
কিন্তু প্রশ্ন হলো, কেন বৃষ্টি নামলেই এমন করে খিচুড়ি খেতে মন চায়?
ইতিহাস ঘেঁটে দেখা যায়, খিচুড়ির শিকড় জড়িয়ে আছে বাউল সংস্কৃতির সঙ্গে। গ্রাম থেকে গ্রামে ঘুরে গান গাওয়া বাউলরা সাধারণত গ্রামবাসীদের কাছ থেকে চাল-ডাল সংগ্রহ করতেন। সহজ রাঁধুনি হিসেবে এই চাল-ডাল একসঙ্গে রান্না করে নিতেন তারা। সেখান থেকেই ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয় এই পদটি।
আগেকার দিনে বর্ষায় যোগাযোগ ব্যবস্থা হয়ে পড়ত অচল। বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে চারদিক প্লাবিত হতো পানিতে। বাজারে যাওয়া অসম্ভব হয়ে যেত। ঘরে যা থাকত—চাল আর ডাল, তাই দিয়ে রান্না হতো খিচুড়ি। অনেক সময় গাছ থেকে টোকা দেওয়া সবজি বা আলু মিশিয়ে তৈরি হতো সবজি খিচুড়ি। সহজে রাঁধা যায়, স্বাদেও অতুলনীয়—এমন একটি পদ হয়ে ওঠে বর্ষার ভরসা।
শুধু ব্যবহারিক দিক থেকেই নয়, বরং খিচুড়ির সঙ্গে জড়িয়ে আছে স্মৃতির যোগ। ছেলেবেলায় মা বা দাদির হাতের খিচুড়ির স্বাদ অনেকের মনেই গেঁথে থাকে। বৃষ্টি নামলেই সেই স্মৃতি জেগে ওঠে—আর মন চায় এক প্লেট খিচুড়ি।
বর্ষাকাল হজমের দিক থেকে কিছুটা ঝুঁকিপূর্ণ। এই সময় গুরুপাক খাবার যেমন খিচুড়ি খেলে পেট অনেকক্ষণ ভরা থাকে এবং এটি তুলনামূলকভাবে হালকা অসুস্থতা থেকেও রক্ষা করতে সাহায্য করে। চাল ও ডালের সমন্বয়ে এই খাবারটি বর্ষার উপযুক্ত একটি পুষ্টিকর বিকল্প।
বৃষ্টি আর খিচুড়ি—এ যেন দুই অদ্ভুত প্রেমিক। মেঘলা আকাশ দেখলেই অনেকের মনে একসাথে জেগে ওঠে স্মৃতি, আবেগ আর ক্ষুধা। আর এই মেলবন্ধনেই খিচুড়ি হয়ে উঠেছে বাঙালির বৃষ্টির দিনে অপরিহার্য এক খাবার।
আরটিভি/এসকে/এআর