শুক্রবার, ০৮ আগস্ট ২০২৫ , ০৬:৩০ পিএম
২০২১ সালে চায়নাতে একটি কেস স্টাডিতে একজন চল্লিশোর্ধ্ব নারী হাসপাতালে ভর্তি হন শারীরিক দুর্বলতা, স্মৃতিশক্তি হ্রাস, অনিয়ন্ত্রিত ওজন কমে যাওয়া এবং ডিপ্রেশনের মত সমস্যা নিয়ে। কোন পরীক্ষা নিরিক্ষায় যখন কিছুই পাওয়া যাচ্ছিলনা তখন টক্সিক উপাদানের পরীক্ষা করার পর ধরা পড়ে উনার শরীরে মার্কারী বা পারদের মাত্রা অতিশয় বেশি।
এর কারণ খুজতে গিয়ে ডাক্তাররা আবিষ্কার করেন উনি দীর্ঘসময় ধরে স্কিন হোয়াইটেনিং প্রোডাক্ট ইউজ করছিলেন। মার্কারী পয়জনিং থেকে কি বিপদ হতে পারে এ বিষয়ে স্কিনেজ ডার্মাকেয়ারের চীফ কনসালটেন্ট ডা. তাসনিম তামান্না হক আরটিভি অনলাইনকে জানান, বাজারের রঙ ফর্সাকারী ক্রিম ব্যবহার করলে আমাদের ত্বকের মারাত্নক বিপদ হতে পারে। আর তা হল:
. কেন স্কিন প্রোডাক্টে মার্কারি বা পারদ ব্যবহৃত হয়?
পারদের একটি বিশেষত্ব হচ্ছে এটি স্কিনের কালো দাগ কমায়। মেলানিন তৈরিতে বাধা দেয় বলে দাগ কমানোর বা ফর্সা করার ক্রিমে অফ লেবেলে এটি ইউজ হয়। বিশ্বের কোন দেশেই এটি স্কিন প্রোডাক্টে ব্যবহারের অনুমতি নেই কিন্তু সমস্যা হচ্ছে আধুনিক দেশগুলিতে এটি মনিটরের ব্যবস্থা থাকলেও বাংলাদেশের মত দেশে এটি দেদারসে এবং সর্বোচ্চ সহ্যমাত্রার চেয়ে কয়েকশ গুণ বেশি মাত্রায়ও ব্যবহৃত হচ্ছে যেহেতু আমাদের ফর্সা হওয়ার বড়ই তাড়াহুড়ো।
. মার্কারি এর ক্ষতিকর দিক
মার্কারি দুর্ভাগ্যক্রমে শুধু যিনি ব্যবহার করেন তারই নয় বরং তার সন্তানেরও ক্ষতি করতে পারে। উচ্চমাত্রায় মার্কারি এর উপস্থিতি মায়ের বুকের দুধের মাধ্যমে শিশুর শরীরে পৌছতে পারে এবং শিশুর শারীরিক দুর্বলতা, মানসিক অসুস্থতা, বুদ্ধিহীনতা বা লো আই.কিউ এর কারণ হতে পারে।
উচ্চমাত্রায় মার্কারি এর উপস্থিতিতে মাসল উইকনেস অর্থাৎ শারীরিক দুর্বলতা, হাত পা অনিয়ন্ত্রিতভাবে নড়াচড়া করা, চোখে ঝাপসা দেখা, হাটাচলায় অসুবিধা, বাচ্চা কনসিভ করতে অসুবিধা, হার্টের সমস্যা ইত্যাদি নানাবিধ সমস্যা দেখা দিতে পারে। সাধারণত যারা মার্কারি নিয়ে কাজ করেন যেমন পেইন্ট ফ্যাক্টরিতে কাজ করেন তাদের ক্ষেত্রে মার্কারি পয়জনিং বেশি হয় তবে যদি আপনি উচ্চমাত্রার মার্কারি সম্পন্ন স্কিন প্রোডাক্ট দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করেন সেক্ষেত্রেও এসব সমস্যা দেখা দিতে পারে।
. এর থেকে বাচার উপায়?
লেবেল দেখে প্রোডাক্ট কিনুন। লেবেল না থাকলে প্রোডাক্ট এভয়েড করুন। রাতারাতি ফর্সা হওয়ার লোভ সংবরণ করুন। মনে রাখবেন খুব দ্রুত রেজাল্ট দেয়ার দাবী করে যে প্রোডাক্টগুলি সেগুলির অধিকাংশতেই দেহের সহ্য ক্ষমতার অতিরিক্ত কেমিক্যাল ব্যবহৃত হয়। এগুলির কুফল রাতারাতি না বোঝা গেলেও এগুলি দেহের মারাত্মক ক্ষতি করতে সক্ষম এবং সহজে ধরা পড়েনা বলে অনেকে এটি মানতেও নারাজ হন আর এই ক্ষতিকর প্রোডাক্ট বিক্রেতারাও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়ে যান।
ডা. তাসনিম তামান্না হক
চীফ কনসালট্যান্ট (স্কিনেজ ডার্মাকেয়ার)।
আরটিভি/এসকে