সোমবার, ২৫ আগস্ট ২০২৫ , ০৫:১৭ পিএম
বিড়াল বন্ধুসুলভ এক প্রাণী। মন মুগ্ধ করা ঘন লোম, শান্ত স্বভাব আর রাজকীয় চেহারার কারণে পার্সিয়ান বিড়াল এখন অনেকের পছন্দের পোষ্য। গৃহপালিত এই প্রাণী মানুষের সঙ্গে মুহূর্তেই মিশে যেতে পারে। সামান্য আদর-যত্ন ও খাবার দিলেই বিড়াল আপনার পোষ মেনে যাবে। অনেকেই বিড়াল পছন্দ করেন। এ কারণে শখেরবশে পুষে থাকেন বিড়াল। কেউ একটি, দুটি আবার কেউ তারও বেশি।
অনেকের দেশি বিড়ালের পাশাপাশি পার্সিয়ান বিড়াল পালতেও পছন্দ করেন। কারো কারো আবার কেবলই পার্সিয়ান বিড়াল পছন্দ। তবে বিশেষ এই প্রজাতির বিড়ালটি কিন্তু আর পাঁচটা সাধারণ প্রজাতির দেশি বিড়াল থেকে আলাদা। নাম শুনে আন্দাজ করাই যায় যে পারস্য দেশে এই প্রজাতির জন্ম। তবে এ নিয়ে নানা বিতর্ক রয়েছে। কেউ বলেন, পশমের মতো লম্বা লোমযুক্ত বিড়ালের এই প্রজাতিটিকে ১৯ শতকে আফগানিস্তান এবং ইরান (সেই সময়ে পারস্য বা পার্সিয়া) থেকে আমদানি করা হয়েছিল।
রানী ভিক্টোরিয়া, ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল থেকে সিনেমার গোয়েন্দা চরিত্র জেম্স বন্ড— সকলের সঙ্গেই পোষ্য হিসাবে দেখা গেছে মধ্য প্রাচ্য থেকে আসা এই প্রজাতির বিড়ালকে। তবে জন্ম যে দেশেই হোক না কেন, বাংলাদেশে এখন এই পার্সিয়ান বিড়াল বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
চলুন পোষ্য হিসাবে বাড়িতে পার্সিয়ান বিড়াল রাখার আগে কিছু বিষয় জেনে নেই :
১) খরচ
পার্সিয়ান বিড়ালেরও বিভিন্ন প্রজাতি রয়েছে। যত উন্নত প্রজাতি দামও তত বেশি। এই প্রজাতির বিড়াল কিনতে গেলে বাজেট রাখতে হবে ৮ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত। শরীরের আকার, লোমের মান, চোখের মণির রং, স্বভাব— এর উপর দাম নির্ভর করে।
২) প্রজাতি
‘ডল ফেস’, ‘পেকে-ফেস’, ‘এক্সটিক শর্টহেয়ার’ এবং ‘টিকাপ’— সাধারণত চারটি প্রজাতির বিড়াল দেখা যায়। তার মধ্যে পুতুলের মতো মুখ বিশিষ্ট পার্সিয়ান বিড়ালের কদর বেশি। দামের দিক থেকেও এই প্রজাতিটির স্থান বেশ উঁচুতে।
৩) খাবার
মাছ পছন্দ হলেও কাঁটা বেছে দিতে হবে। না হলে গলায় বিঁধে যেতে পারে। টুনা, স্যামনের মতো সামুদ্রিক মাছ যেমন প্রিয়। তেমনই টিনজাত খাবার খেতেও ভালোবাসে পার্সিয়ান বিড়াল। এ ছাড়াও হাড় ছাড়া মুরগি সেদ্ধ দেয়া যেতে পারে তাদের।
৪) গোসল
সাধারণত এই প্রজাতির বিড়ালকে মাসে এক বার গোসল করালেই চলে। এই প্রজাতির বিড়ালের জনপ্রিয়তার কারণ তার লোম। তাই আলাদা করে লোমের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। তাদের জন্য আলাদা শ্যাম্পু এবং কন্ডিশনার ব্যবহার করাই ভালো।
৫) চিকিৎসা
পার্সিয়ান প্রজাতির বিড়ালের প্রথম এবং প্রধান সমস্যা হলো চোখ। কারণে-অকারণে সারা ক্ষণ চোখ থেকে জল পড়ার সমস্যা দেখা যায় এদের। নাকও বন্ধ থাকে প্রায় সময়েই। মানুষের মতোই চট করে ঠান্ডা লাগা বা অ্যালার্জির সমস্যা দেখা যায় কোনও কোনও প্রজাতির মধ্যে। তেমন বড় কোনো রোগ না হলেও বছরে দু’বার পশু চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া জরুরি।
আরটিভি/এমএ