images

লাইফস্টাইল / ফিচার / ফ্যাশন / পরামর্শ / স্টাইল

আয়নায় নিজেকে কেন বেশি আকর্ষণীয় মনে হয়

সোমবার, ০১ ডিসেম্বর ২০২৫ , ০১:৫৪ পিএম

আমরা দিনের একটা বড় সময় কাটিয়ে দিই আয়নার সামনে। পোশাক ঠিক করা থেকে শুরু করে সামান্য চুল ঠিক করা পর্যন্ত, আয়না আমাদের দৈনন্দিন জীবনের এক অপরিহার্য অংশ। কিন্তু অনেকেই খেয়াল করেছেন যে, আয়নায় নিজেকে যতটা সুন্দর, ত্রুটিহীন ও আকর্ষণীয় মনে হয়। ছবি বা ভিডিওতে ঠিক ততটা লাগে না। এই তারতম্যের পেছনে রয়েছে বেশ কিছু মনস্তাত্ত্বিক ও বৈজ্ঞানিক কারণ।

চলুন সেই রহস্যগুলো উদ্ঘাটন করা যাক: 

১. পরিচয়ের ভ্রান্তি: ‘দ্য মিরর ইমেইজ’ বা উল্টো প্রতিচ্ছবি

​আয়নায় আমরা নিজেদের যে প্রতিচ্ছবি দেখি, তা আসলে আমাদের উল্টো বা পার্শ্ব-বিপরীত প্রতিবিম্ব। অর্থাৎ, আয়না আমাদের ডান দিককে বাঁ-দিক এবং বাঁ দিককে ডানদিক করে দেখায়।

​পরিচিতি ও স্বস্তি: ছোটবেলা থেকে শুরু করে সারাজীবন আমরা আয়নাতেই নিজেদের এই উল্টো প্রতিচ্ছবি দেখতে অভ্যস্ত। আমাদের মস্তিষ্ক এই ‘উল্টো’ চেহারাকেই আমাদের আসল চেহারা হিসেবে চেনে এবং গ্রহণ করে।

​অসামঞ্জস্যতার প্রভাব: মানুষের মুখমণ্ডল পুরোপুরি প্রতিসম হয় না। কিছু সূক্ষ্ম অসামঞ্জস্যতা (যেমন- চোখের আকারের সামান্য পার্থক্য, একদিকের ভ্রু সামান্য ওপরে থাকা ইত্যাদি) প্রায় সবার মধ্যেই থাকে। যেহেতু আমরা অভ্যস্তভাবে উল্টো চেহারাটা দেখি, তাই ছবিতে যখন অন্যদের দেখা আসল চেহারাটা (যা আমরা আয়নায় দেখি না) দেখি, তখন এই অসামঞ্জস্যতাগুলো হঠাৎ করেই বেশি প্রকট মনে হয়। মস্তিষ্ক এই অপরিচিত চেহারার কারণে কিছুটা অস্বস্তি বোধ করে, যা আকর্ষণ কমিয়ে দেয়।

​২. এক্সপোজার এফেক্ট: যত দেখি, তত ভালো লাগে

​মনোবিজ্ঞানে একটি ধারণা আছে, যার নাম ‘Exposure Effect’ বা ‘Mere-Exposure Effect’। এর মূলকথা হলো, আমরা কোনো জিনিস বা ব্যক্তির সাথে যত বেশি পরিচিত হই বা যত বেশি দেখি, তাকে তত বেশি পছন্দ করতে শুরু করি।

.​আয়নার প্রাধান্য: আমরা দিনের মধ্যে বারবার আয়নায় নিজেদের দেখি। এর ফলে আমাদের মস্তিষ্ক নিজেদের এই উল্টো রূপটির সাথে অত্যন্ত পরিচিত হয়ে ওঠে এবং এটিকে স্বাভাবিকভাবেই ইতিবাচকভাবে বিচার করে।

​ছবির স্বল্পতা: ছবি বা ভিডিওতে নিজেদের দেখার সুযোগ তুলনামূলকভাবে কম হয়, এবং সেখানে আমরা সেই 'উল্টো' প্রতিচ্ছবিটা পাই না। তাই এই অপরিচিত চেহারাটি মস্তিষ্ককে ততটা আকর্ষণ করতে পারে না।

​৩. নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা: সঠিক কোণ ও আলো

সেরা কোণ: আমরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সেই কোণটি বেছে নিই, যেখান থেকে আমাদের সবচেয়ে সুন্দর দেখায়।আয়নায় দেখার সময় আমাদের হাতে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ থাকে।

আলোর ব্যবহার: কোন আলোতে ভালো দেখাবে (যেমন- সরাসরি আলো নয়, বরং নরম ও সামনে থেকে আসা আলো) সেই বিষয়েও আমরা সচেতন থাকি।

​ভঙ্গি: নিজের ইচ্ছানুযায়ী মুখভঙ্গি বা পোজ (pose) তৈরি করে নিই।

​অন্যদিকে, ছবি বা ভিডিওতে অনেক সময় নিয়ন্ত্রণ ফটোগ্রাফারের হাতে থাকে বা পরিস্থিতি অনুযায়ী তৈরি হয়। হঠাৎ করে তোলা ছবি বা অপ্রীতিকর আলোতে তোলা ছবিতে তাই নিজেদের প্রত্যাশিত রূপে দেখতে না পাওয়াই স্বাভাবিক।

​৪. মনস্তাত্ত্বিক ফিল্টার ও আকাঙ্ক্ষা

আয়নার সামনে দাঁড়ানোর সময় আমরা নিজেদেরকে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক ফিল্টার দিয়ে দেখি। ​

ইতিবাচক পক্ষপাতিত্ব : গবেষণায় দেখা গেছে, বেশিরভাগ মানুষই নিজেদের আকর্ষণ ক্ষমতাকে গড়ে প্রায় ২০% বেশি করে দেখেন। আমরা আমাদের ত্রুটিগুলোর চেয়ে ইতিবাচক বৈশিষ্ট্যগুলোর উপর বেশি মনোযোগ দিই। আয়নায় আমরা যা দেখতে চাই, মূলত সেটাই দেখি।

আত্মপ্রেম: নিজের প্রতি ভালোবাসা বা ‘Self-Love’ এর একটি উপাদান হিসেবে নিজেকে সুন্দর দেখার আকাঙ্ক্ষা কাজ করে।

​আয়নায় নিজেকে বেশি আকর্ষণীয় দেখার কারণটি কেবল শারীরিক নয়, এটি আমাদের মস্তিষ্কের পরিচিতি, নিয়ন্ত্রণ এবং মনস্তাত্ত্বিক পক্ষপাতিত্বের একটি জটিল মিথস্ক্রিয়া। আয়না সেই রূপটি দেখায়, যা আমরা সারাজীবন দেখতে অভ্যস্ত, অর্থাৎ আমাদের উল্টো প্রতিচ্ছবি। আর এই পরিচিতিই আমাদের মনে আত্মবিশ্বাস ও আকর্ষণবোধ তৈরি করে। 

আরও পড়ুন
BIKE

নভেম্বর মাসে যেসব নতুন মোটরসাইকেল বাজারে এসেছে

​মনে রাখবেন, অন্যরা আপনাকে ছবিতে দেখা আপনার রূপের মতোই দেখেন না, কারণ আপনার আসল রূপ তাদের কাছেও প্রতিদিনের দেখা একটি পরিচিত রূপ। তাই আয়না এবং ছবির তারতম্য নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে, আপনার আসল আকর্ষণীয়তা - যা আপনার ব্যক্তিত্ব, হাসি এবং আত্মবিশ্বাসের মধ্যে রয়েছে সেটার ওপর মনোযোগ দিন!

আরটিভি/এসকে