images

লাইফস্টাইল / স্বাস্থ্য পরামর্শ

কণ্ঠস্বর ভেঙে যাওয়া বা গলা ব্যথা কখন তা ক্যানসারের সংকেত?

মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬ , ০১:২৯ পিএম

মানুষের কথা বলা, শ্বাস নেওয়া ও খাবার গিলতে স্বরযন্ত্র (ল্যারিংক্স) অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। এই স্বরযন্ত্রে ক্যান্সার হলে তাকে স্বরযন্ত্রের ক্যানসার বলা হয়, যা মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারের একটি গুরুতর অংশ। দেশে এখনো এ রোগ সম্পর্কে সচেতনতা কম থাকায় অনেক রোগী দেরিতে চিকিৎসকের কাছে যান। অথচ সময়মতো লক্ষণ শনাক্ত করে চিকিৎসা শুরু করলে এ ক্যানসার সম্পূর্ণ নিরাময়যোগ্য। 

কতদিন স্থায়ী হলে সতর্ক হবেন?

স্বরযন্ত্রের ক্যানসারের লক্ষণ অনেক সময় সাধারণ গলার সমস্যার মতো মনে হয়। তবে নিচের উপসর্গগুলো নির্দিষ্ট সময়ের বেশি থাকলে অবহেলা করা যাবে না

কণ্ঠস্বর ভেঙে যাওয়া বা স্বর বসে যাওয়া: সর্দি-কাশি ছাড়াই যদি ২-৩ সপ্তাহের বেশি সময় ধরে কণ্ঠস্বর ভাঙা থাকে, তা প্রাথমিক সতর্ক সংকেত হতে পারে।

গলা ব্যথা বা অস্বস্তি: সাধারণ গলা ব্যথা ৭-১০ দিনের মধ্যে সেরে যায়। কিন্তু ৩ সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি।

গিলতে কষ্ট বা ব্যথা: খাবার বা পানি গিলতে সমস্যা ২ সপ্তাহের বেশি থাকলে এবং ধীরে ধীরে বাড়তে থাকলে তা বিপদের ইঙ্গিত হতে পারে।

এক পাশের কানে ব্যথা: কানে সংক্রমণ না থাকলেও যদি ২-৩ সপ্তাহ ধরে এক পাশের কানে ব্যথা থাকে, তা স্বরযন্ত্রের সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।

শ্বাসকষ্ট বা শ্বাসে শব্দ হওয়া: ক্রমশ বাড়তে থাকা শ্বাসকষ্ট বা শ্বাস নেওয়ার সময় শব্দ হওয়া গুরুতর লক্ষণ।

ঘাড়ে গিঁট বা ফোলা: ব্যথাহীন ফোলা ২ সপ্তাহের বেশি থাকলে পরীক্ষা করা প্রয়োজন।

অকারণে ওজন কমে যাওয়া: স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাস থাকা সত্ত্বেও অনিচ্ছাকৃত ওজন হ্রাস সতর্কবার্তা হতে পারে।

কেন হয় স্বরযন্ত্রের ক্যান্সার?

*ধূমপান (সবচেয়ে বড় কারণ)

*নিয়মিত মদ্যপান

*দূষিত পরিবেশে কাজ

*কণ্ঠস্বরের অতিরিক্ত ও দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহার

*অপুষ্টি ও দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা

*হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (HPV) সংক্রমণ

চিকিৎসা কী?

* চিকিৎসা নির্ভর করে রোগের পর্যায়, অবস্থান, বয়স ও শারীরিক অবস্থার ওপর।

* প্রাথমিক পর্যায়ে রেডিওথেরাপি দিয়েই ভালো ফল পাওয়া যায় এবং অনেক ক্ষেত্রে কণ্ঠস্বর সংরক্ষণ সম্ভব।

* অগ্রসর পর্যায়ে অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপি একসঙ্গে প্রয়োজন হতে পারে।

* কিছু ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ স্বরযন্ত্র অপসারণের পর বিশেষ থেরাপির মাধ্যমে রোগী আবার কথা বলতে সক্ষম হন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বরযন্ত্রের ক্যান্সারের বড় অংশই অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে সফলভাবে নির্মূল করা সম্ভব।

প্রতিরোধই সর্বোত্তম চিকিৎসা

ধূমপান ও মদ্যপান পরিহার, পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ, কণ্ঠস্বরের অতিরিক্ত ব্যবহার এড়িয়ে চলা। গলার সমস্যা ২-৩ সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে দ্রুত নাক-কান-গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া।

স্বরযন্ত্রের ক্যান্সার হঠাৎ হয় না শরীর আগে থেকেই সংকেত দেয়। সেই সংকেতগুলো সময়মতো বুঝতে পারলেই জীবন ও কণ্ঠস্বর দুটোই রক্ষা করা সম্ভব।

আরটিভি/এসকে