images

লাইফস্টাইল / বিজ্ঞান

সংকটের মুখে পেট্রোল ভরেই অকটেনের গাড়ি চালাচ্ছেন অনেকে, বিপদ কতটা?

বুধবার, ০১ এপ্রিল ২০২৬ , ০৫:০৭ পিএম

ইরান যুদ্ধের ফায়দা লুটতে দেশের বাজারে জ্বালানি তেল নিয়ে কারসাজিতে মেতে উঠেছেন মজুতদাররা। লাগাতার অভিযান ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার পরও বাজারের অস্থিরতা কাটাতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার। ফিলিং স্টেশনগুলোতে এখনও দেখা যাচ্ছে যানবাহনের লম্বা লাইন। ঘন্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে তেল না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে অনেক গ্রাহককে। এ অবস্থায় অকটেন চালিত অনেক গাড়ির মালিক বিকল্প হিসেবে পেট্রোল কিনেই চাহিদা মেটাচ্ছেন। 

পরিস্থিতির বিবেচনায়, অকটেনে অভ্যস্ত ইঞ্জিন পেট্রল দিয়ে চালানো আসলে কতটা নিরাপদ, সে প্রশ্ন উঠছে স্বাভাবিকভাবেই।  

প্রকৃতপক্ষে, অকটেন আলাদা কোনও জ্বালানি নয়; এটি জ্বালানির দহনক্ষমতা পরিমাপের একটি একক। বাজারে যে জ্বালানিকে অকটেন নামে বেচাকেনা হয়, সেটি মূলত উচ্চমানের পরিশোধিত পেট্রল, যার অকটেন রেটিং বেশি; সাধারণত ৯৫ বা তার বেশি হয়ে থাকে। ইঞ্জিনের ভেতরে বাতাস ও জ্বালানির মিশ্রণে যখন পিস্টন চাপ দেয়, তখন সেটি স্পার্ক প্লাগের আগুনের আগেই নিজে নিজে জ্বলে উঠতে চায়। জ্বালানি যদি এই অকাল দহন রোধ করতে পারে, তবেই তাকে উচ্চমানের জ্বালানি বলা হয়। অকটেন রেটিং যত বেশি হয়, জ্বালানি তত বেশি চাপ সহ্য করতে পারে।

তাত্ত্বিকভাবে, পেট্রল ও অকটেন দুটোই হাইড্রোকার্বন-ভিত্তিক জ্বালানি। তবে, আধুনিক গাড়ি বা হাই-পারফরম্যান্স বাইকগুলো একটি নির্দিষ্ট কম্প্রেশন রেশিও বা চাপের পরিমাপ মাথায় রেখে তৈরি করা হয়। 

আরও পড়ুন
Web-Image---Copy

১ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানির অনুমোদন দিলো সরকার

তাই কোনও গাড়ির ম্যানুয়ালে যদি অকটেন ব্যবহারের নির্দেশনা থাকে, তবে সেখানে পেট্রল ব্যবহার না করাই ভালো। জরুরি প্রয়োজনে পেট্রল যদি নিতেই হয়, তবে খুব সামান্য পরিমাণে নেওয়া যেতে পারে, যাতে পরবর্তী পাম্প পর্যন্ত যাওয়া যায়। কিন্তু, অকটেনের গাড়িতে নিয়মিত পেট্রোল ব্যবহার বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।

অকটেনের ইঞ্জিনে পেট্রল ব্যবহারে দীর্ঘমেয়াদি এবং ব্যয়বহুল কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। পেট্রলের দহনক্ষমতা অকটেনের চেয়ে কম। এর ফলে পিস্টন ওপরে ওঠার আগেই জ্বালানি জ্বলে ওঠে। এতে ইঞ্জিনের ভেতর থেকে ধাতব ঠকঠক শব্দ হয়, যাকে বলা হয় নকিং। এটি ইঞ্জিনের পিস্টন ও সিলিন্ডারের মারাত্মক ক্ষতি করে। উচ্চক্ষমতার ইঞ্জিনে পেট্রল ব্যবহার করলে গাড়ি তার স্বাভাবিক শক্তি হারায়। তেমনটা ঘটলে অ্যাকসিলারেটর চাপলেও গাড়ি আগের মতো গতি পাবে না এবং মাইলেজ দ্রুত কমতে থাকবে। 

এছাড়া, অকটেন অনেক বেশি পরিষ্কারভাবে জ্বলে। বিপরীতে পেট্রোল পুরোপুরি না জ্বলার কারণে ইঞ্জিনের ভালভ এবং স্পার্ক প্লাগে কার্বনের আস্তরণ জমা হয়। এতে ইঞ্জিনের আয়ু কমে যায়। ভুল জ্বালানি ব্যবহারের ফলে ইঞ্জিনের দহনপ্রক্রিয়ায় অসামঞ্জস্য তৈরি হয়, যা ইঞ্জিনকে দ্রুত গরম করে তোলে। দীর্ঘক্ষণ এভাবে চললে ইঞ্জিন সিজ করার ঝুঁকি থাকে।

প্রতিটি গাড়ির সঙ্গে একটি ইউজার ম্যানুয়াল থাকে। সেখানে স্পষ্ট লেখা থাকে, গাড়ির জন্য কত রেটিংয়ের জ্বালানি প্রয়োজন। সেটি মেনে চলাই সবচেয়ে নিরাপদ। 

অনেকে আবার মনে করেন, অর্ধেক পেট্রল আর অর্ধেক অকটেন মিশিয়ে নিলে সাশ্রয় হবে। কিন্তু এ ধারণাটি ভুল। এতে জ্বালানির মান ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে এবং সেন্সরযুক্ত আধুনিক ইঞ্জিনে ত্রুটি দেখা দেয়। 

শুধু অকটেন বা পেট্রোল বাছাই করাই শেষ কথা নয়; জ্বালানির মান যেন খাঁটি হয় সেদিকেও খেয়াল রাখা জরুরি। তাই বিশ্বস্ত পাম্প থেকে জ্বালানি নেওয়া উচিত। সামান্য কিছু টাকা বাঁচাতে বা খামখেয়ালি মতো অকটেনের গাড়িতে পেট্রোল ভরে চালালে দীর্ঘ মেয়াদে এটি বড় খরচের কারণ হতে পারে। 

আরটিভি/এসএইচএম