images

লাইফস্টাইল

লাবণ্যময় ত্বকের টোটকা লুকিয়ে আছে ঘরেই

শুক্রবার, ০৩ এপ্রিল ২০২৬ , ০৩:১২ পিএম

দাগহীন সুস্থ, সুন্দর ও পরিষ্কার ত্বক পেতে প্রয়োজন নিয়মিত যত্ন। তবে, ভালো ফল পেতে নামিদামি ব্র্যান্ডের প্রসাধনী ব্যবহার করতে গিয়ে হিতে বিপরীত ঘটে অনেকের ক্ষেত্রেই। সেসব প্রসাধনীতে থাকা রাসায়নিক পদার্থ তিক্ত অভিজ্ঞতা বয়ে আনে অনেকের জীবনে। অথচ, অনেকেই জানেন না, ঘরেই লুকিয়ে আছে লাবণ্যময় ত্বকের দারুণ কার্যকর টোটকা। নিয়মিত ও সঠিকভাবে ব্যবহার করলে মাত্র কয়েকটি সহজলভ্য উপাদানেই মিলতে পারে সতেজ ও প্রাণবন্ত ত্বক। 

চলুন জেনে নেওয়া যাক ত্বকের যত্নে কিছু কার্যকর ঘরোয়া উপাদানের ব্যবহার—

পোলাও চালের গুঁড়া

ত্বকের যত্নে পোলাও চালের গুঁড়া একটি কার্যকর প্রাকৃতিক উপাদান। এটি ত্বকের মৃত কোষ দূর করে, উজ্জ্বলতা বাড়ায় এবং অতিরিক্ত তেল নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

ব্যবহার:

* উজ্জ্বল ত্বকের জন্য চালের গুঁড়া, টকদই ও মধু মিশিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করে ১৫–২০ মিনিট ব্যবহার করতে পারেন।
* ডার্ক সার্কেল কমাতে চালের গুঁড়া, পাকা কলা ও ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে আন্ডার-আই মাস্ক হিসেবে ব্যবহার করা যায়।
* রোদে পোড়া দাগ কমাতে চালের গুঁড়া, টমেটোর রস ও অলিভ অয়েল মিশিয়ে ফেস প্যাক তৈরি করা যেতে পারে।
* স্ক্রাব হিসেবে মধু বা অলিভ অয়েলের সঙ্গে মিশিয়ে হালকা ম্যাসাজ করলেও ভালো ফল পাওয়া যায়।

মসুর ডালের গুঁড়া

মসুর ডালের গুঁড়া ত্বকের গভীর পরিষ্কার, মৃত কোষ দূর করা এবং রোদে পোড়া দাগ কমাতে কার্যকর। এতে থাকা প্রোটিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে সাহায্য করে।

ব্যবহার:

* উজ্জ্বল ত্বকের জন্য মসুর ডালের গুঁড়া ও কাঁচা দুধ বা টকদই মিশিয়ে ফেসপ্যাক ব্যবহার করা যায়।
* রোদে পোড়া দাগ দূর করতে মধু ও লেবুর রসের সঙ্গে মিশিয়ে লাগানো যেতে পারে।
* স্ক্রাব হিসেবে গোলাপ জলের সঙ্গে মিশিয়ে মুখে আলতোভাবে ম্যাসাজ করা যায়।

দারুচিনির গুঁড়া

দারুচিনির গুঁড়া অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। এটি ব্রণ কমাতে ও ত্বক উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন
LIpy

ওজন কমানোর ওষুধ নেওয়ার আগে যা জানা জরুরি

ব্যবহার:

* ব্রণ দূর করতে দারুচিনির গুঁড়া ও মধু মিশিয়ে ১৫–২০ মিনিট মুখে লাগিয়ে রাখতে পারেন।
* ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে দই ও মধুর সঙ্গে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করা যায়।
* কালো দাগ কমাতে লেবুর রসের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।

সতর্কতা: দারুচিনি ব্যবহারের আগে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট বা কানের পেছনে অথবা হাতের তালুতে সামান্য লাগিয়ে দেখা উচিত। কারণ এটি সংবেদনশীল ত্বকে জ্বালাপোড়া সৃষ্টি করতে পারে। 

হলুদের গুঁড়া

ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়ানো, ব্রণ কমানো এবং দাগছোপ হালকা করতে হলুদের গুঁড়া বহুল ব্যবহৃত একটি উপাদান। এতে থাকা কারকিউমিন ত্বকের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

ব্যবহার:

* বেসন ও মধুর সঙ্গে হলুদ মিশিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করলে ত্বক উজ্জ্বল হয়।
* চন্দন গুঁড়া ও লেবুর রসের সঙ্গে ব্যবহার করলে ব্রণ কমে।
* টকদই ও মধুর সঙ্গে ব্যবহার করলে ত্বক টানটান হয় এবং বলিরেখা কমে।

শুকনো গোলাপের পাপড়ি

শুকনো গোলাপের পাপড়ি গুঁড়া করে মধুর সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করলে ত্বক উজ্জ্বল হয়। এটি ফেসপ্যাক ছাড়াও ফেসিয়াল বা বাথ সোক হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।

জায়ফলের গুঁড়া

জায়ফলের গুঁড়া ত্বকের ব্রণ ও কালো দাগ কমাতে কার্যকর। এতে থাকা অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল উপাদান ত্বকের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে।

ব্যবহার:

* জায়ফলের গুঁড়া, মধু ও লেবুর রস মিশিয়ে ব্রণের ওপর লাগানো যেতে পারে।
* কাঁচা দুধের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করলে ত্বক নরম ও উজ্জ্বল হয়।
* চোখের নিচের কালো দাগ কমাতে সামান্য দুধের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করা যায়।

যষ্টিমধুর গুঁড়া

যষ্টিমধু ত্বকের কালচে দাগ, মেছতা ও রোদে পোড়া ভাব কমাতে কার্যকর। এতে প্রাকৃতিক ফ্ল্যাভোনয়েড ও শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান রয়েছে। যা ত্বকের রঙ উজ্জ্বল করতে সাহায্য করে এবং হাইপারপিগমেন্টেশন কমায়।

ব্যবহার:

* যষ্টিমধুর গুঁড়া ও টকদই মিশিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করে সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার ব্যবহার করা যেতে পারে।
* ডার্ক স্পট বেশি হলে এতে টমেটোর রস মিশিয়েও ব্যবহার করা যায়।

মুলতানি মাটি

মুলতানি মাটি খনিজ পদার্থসমৃদ্ধ একটি প্রাকৃতিক উপাদান। যা ত্বকের অতিরিক্ত তেল শোষণ করে এবং ব্রণ কমাতে সাহায্য করে।

ব্যবহার:

* গোলাপ জলের সঙ্গে মিশিয়ে তৈলাক্ত ত্বকে ব্যবহার করা যায়।
* নিমপাতার গুঁড়া ও গোলাপ জলের সঙ্গে মিশিয়ে ব্রণ কমানোর প্যাক তৈরি করা যায়।
* টমেটোর রস বা দইয়ের সঙ্গে ব্যবহার করলে রোদে পোড়া দাগ হালকা হয়।

ফিটকিরি

ফিটকিরি বিশুদ্ধ করে গোলাপ গুঁড়া বা অ্যালোভেরার সঙ্গে মিশিয়ে ত্বকে ব্যবহার করা যায়। এছাড়া ওপরে উল্লেখিত উপাদানগুলো একসঙ্গে মিশিয়ে ফেসপ্যাক তৈরি করেও ব্যবহার করা সম্ভব। এতে ত্বকের কালো দাগ দূর হয় এবং ত্বক হয়ে ওঠে গ্লোয়ি। 

প্রাকৃতিক উপাদান ব্যবহার করলে ত্বকে সাধারণত কম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায়। তবে সংবেদনশীল ত্বকের ক্ষেত্রে নতুন কোনো উপাদান ব্যবহারের আগে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট করা ভালো। নিয়মিত যত্ন ও সঠিক ব্যবহারে ঘরোয়া এসব ভেষজ উপাদান ত্বককে করে তুলতে পারে আরও উজ্জ্বল, মসৃণ ও প্রাণবন্ত।

আরটিভি/জেএমএ