মঙ্গলবার, ০৭ এপ্রিল ২০২৬ , ১১:৫৯ এএম
শহরের ব্যস্ত রাস্তা হোক বা নিরিবিলি গলি, গাড়ি চলতে শুরু করলেই অনেক সময় দেখা যায় একদল পথ কুকুর জীবন বাজি রেখে গাড়ির পেছনে ছুটছে। অনেকে ভয় পেয়ে থমকে যান, কেউ বিরক্তি প্রকাশ করেন। কিন্তু কি জানেন, এই আচরণের পেছনে রয়েছে প্রাকৃতিক প্রবণতা, অভিজ্ঞতা আর বিবর্তনের প্রভাব?
নিজের এলাকা রক্ষার প্রবণতা
পথ কুকুর সাধারণত একটি নির্দিষ্ট এলাকায় দলবদ্ধভাবে থাকে। খাবার খোঁজা, নিরাপদ জায়গা খুঁজে নেওয়া তাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। দ্রুতগতির গাড়ি বা অচেনা শব্দ তাদের কাছে হুমকি হিসেবে ধরা দেয়। তারা ঘেউ ঘেউ করে বা তাড়া দিয়ে সেই হুমকি দূর করার চেষ্টা করে। গাড়ি চলে গেলে তারা মনে করে, জয় হয়েছে। এই অনুভূতিই তাদের বারবার একই কাজ করতে উৎসাহিত করে।
শিকারি সত্তার প্রভাব
কুকুরের পূর্বপুরুষ নেকড়ে ছিল। সেই বন্য শিকারি প্রবণতা আজও তাদের ভেতরে জেগে আছে। চোখের সামনে দ্রুতগতিতে ছুটে চলা কিছু তাদের শিকার বা শত্রু মনে হয়, তাই তারা তাড়া শুরু করে। এটি আক্রমণ নয়, বরং হাজার বছরের বিবর্তনের প্রাকৃতিক প্রতিফলন।
অতীত অভিজ্ঞতার প্রভাব
অনেক কুকুর আগে কোনো গাড়ির ধাক্কায় আহত হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে গাড়ির শব্দ বা চাকা দেখলেই তারা আতঙ্কিত হয়। এই ভয় ও আতঙ্ক থেকে আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যে তারা তেড়ে আসে।
একঘেয়েমি ও উত্তেজনা
পথ কুকুরদের জীবন সহজ নয়। খাবারের অনিশ্চয়তা, নিরাপত্তাহীনতা এবং দীর্ঘ সময় একাকীত্ব, সব মিলিয়ে তাদের শরীরে শক্তি জমে থাকে। চলন্ত গাড়ি তাদের কাছে এক ধরনের খেলা বা উত্তেজনার উৎস হিসেবে কাজ করে।
মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি দরকার
পথ কুকুরের এই আচরণ ভীতিকর মনে হলেও, এটি তাদের বেঁচে থাকার লড়াইয়ের অংশ। তাই তাদের প্রতি ধৈর্য ধরাটা জরুরি। গাড়ির গতি কমিয়ে বা হঠাৎ উত্তেজিত না হলে কুকুরগুলো স্বাভাবিকভাবেই সরে যায়। এই ভাষাহীন প্রাণীর অনুভূতিকে বোঝাই প্রকৃত মানবিকতা।
আরটিভি/জেএমএ