শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬ , ০৪:৪৩ পিএম
মাঠের কিনারে, রাস্তার ধারে কিংবা পরিত্যক্ত কোনো বালুচরে হলদে আভা ছড়িয়ে ফুটে থাকতে দেখা যায় শিয়ালকাঁটা। এর সৌন্দর্য প্রথম দেখায় যে কাউকেই মুগ্ধ করবে, কিন্তু কাছে গেলেই এটি নিজের আত্মরক্ষার রূপটি প্রকাশ করে। সারা শরীরে তীক্ষ্ণ কাঁটার বর্ম পরে থাকা এই উদ্ভিদটি যেমন অবহেলিত, তেমনি এর রয়েছে বৈচিত্র্যময় কিছু গুণ।
বাহ্যিক রূপ ও সৌন্দর্য
শিয়ালকাঁটা গাছের পাতা ও কাণ্ড অনেকটা ধূসর-সবুজ বর্ণের। পাতার কিনারে লম্বা ও ধারালো কাঁটা থাকে, যা একে ছাগল বা গরুর হাত থেকে রক্ষা করে। বসন্তের শেষ থেকে গ্রীষ্মের শুরু পর্যন্ত এর মাথায় টকটকে হলুদ রঙের ফুল ফোটে। ফুলের পাপড়িগুলো রেশমের মতো পাতলা ও নরম, যা এর কণ্টকাকীর্ণ শরীরের সাথে এক অদ্ভুত বৈপরীত্য তৈরি করে।

এই উদ্ভিদটি মূলত মেক্সিকোর আদি নিবাসী হলেও এখন এটি বাংলাদেশের সর্বত্র দেখা যায়। এটি একটি আগাছা হিসেবে পরিচিত হলেও এর প্রাণশক্তি প্রবল। চরম খরা বা প্রতিকূল পরিবেশেও এটি বুক টানটান করে টিকে থাকতে পারে। শিয়ালকাঁটা (Mexican Prickly Poppy) ফুল। এর বৈজ্ঞানিক নাম Argemone mexicana।
শিয়ালকাঁটার গুণাগুণ ও সতর্কতা
শিয়ালকাঁটা শুধু একঘেয়ে আগাছা ন লোকজ চিকিৎসায় এর বেশ কিছু ব্যবহার রয়েছে। তবে এর একটি অন্ধকার দিকও আছে।
ঔষধি ব্যবহার: কবিরাজি চিকিৎসায় এর মূল এবং আঠা (হলুদ রঙের কষ) চর্মরোগ ও ব্যথানাশকের কাজে ব্যবহৃত হয়।

সতর্কতা: এর বীজ দেখতে অনেকটা সরিষার মতো। ইতিহাসে দেখা গেছে, সরিষার তেলের সাথে শিয়ালকাঁটার বীজের ভেজাল মেশানোর ফলে মারাত্মক শারীরিক সমস্যা (যেমন- ড্রপসি বা শোথ রোগ) হতে পারে। তাই এটি ভক্ষণযোগ্য নয় এবং অত্যন্ত সতর্কতার সাথে নাড়াচাড়া করা উচিত।
প্রকৃতির এক রহস্যময় সৃষ্টি এই শিয়ালকাঁটা। যে সৌন্দর্যকে আমরা আগাছা বলে এড়িয়ে চলি, সেই সৌন্দর্যের বুকেই বাস করে তীক্ষ্ণ কাঁটা আর বিষাক্ত তেলের ইতিহাস। ধুলোমাখা পথের ধারে হলদে হাসিতে প্রকৃতিকে রাঙিয়ে রাখাই যেন এই অবহেলিত ফুলের সার্থকতা।
আরটিভি/এসকে