images

লাইফস্টাইল / ফিচার / স্বাস্থ্য পরামর্শ

মদ ছেড়ে রাইস বিয়ারে মজেছে জেন-জি, এই পানীয় কতটুকু স্বাস্থ্যকর?

শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ , ১২:১১ পিএম

এক সময় জনপ্রিয় হয়েছিল কম্বুচা। এখন আলোচনায় এসেছে উত্তর-পূর্ব ভারতের ঐতিহ্যবাহী পানীয় ‘রাইস বিয়ার’। তরুণ প্রজন্ম, বিশেষ করে জেন জি-এর মধ্যে অ্যালকোহল গ্রহণের প্রবণতা কমে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে বিকল্প ও ঐতিহ্যবাহী ফারমেন্টেড পানীয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সমীক্ষা বলছে, ১৮ থেকে ৩৪ বছর বয়সীদের মধ্যে মদ্যপানের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। প্রায় ২১.৫ শতাংশ জেন জি একেবারেই অ্যালকোহল গ্রহণ করেন না এবং প্রায় ৩৯ শতাংশ খুব কম বা মাঝে মাঝে পান করেন। এই পরিবর্তনের ফলে বিকল্প পানীয়ের বাজারেও নতুন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।

রাইস বিয়ার কী?

রাইস বিয়ার মূলত চাল থেকে তৈরি একটি ফারমেন্টেড পানীয়, যা দীর্ঘদিন ধরে অসম ও উত্তর-পূর্ব ভারতের বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যের অংশ। স্থানীয়ভাবে এটি বিভিন্ন নামে পরিচিত যেমন বাখার, আমাও বা এপাক। কোথাও আবার আপং, জুডিমা বা রোহি নামেও পাওয়া যায়।

প্রস্তুত প্রণালীতে চালের গুঁড়োর সঙ্গে ভেষজ মিশিয়ে সেদ্ধ চালের সঙ্গে ফারমেন্ট করা হয়, যা মাটির বা বাঁশের পাত্রে রাখা হয়। এতে সাধারণত ৫% থেকে ১০% পর্যন্ত অ্যালকোহল থাকে।

বর্তমানে শহুরে ক্যাফেগুলোতেও রাইস বিয়ার পরিবেশন করা হচ্ছে, যদিও সেগুলো অনেক সময় ঐতিহ্যবাহী রূপ থেকে কিছুটা ভিন্ন ফ্লেভার যোগ করা বা পাতলা করে পরিবেশন করা হয়।

জনপ্রিয়তা বাড়ছে কেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রচার এবং ‘নতুন কিছু ট্রাই করার’ প্রবণতা রাইস বিয়ারের জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছে। অনেক তরুণের কাছে এটি একটি বিকল্প লাইফস্টাইল চয়েস হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

স্বাস্থ্যকর কি না?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাইস বিয়ারে ফারমেন্টেশনের কারণে কিছু উপকারী মাইক্রোব থাকতে পারে, যা সীমিত পরিমাণে হজমে সহায়ক হতে পারে। তবে এটি কোনোভাবেই সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যকর পানীয় নয়।

কারণ এতে অ্যালকোহল থাকে। নিয়মিত বা বেশি পরিমাণে পান করলে লিভারের ক্ষতি, হৃদরোগের ঝুঁকি, ডিহাইড্রেশন এবং মানসিক প্রভাবসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

ফলে বিশেষজ্ঞদের মতে, রাইস বিয়ারকে ‘হেলদি ড্রিংক’ হিসেবে দেখা ঠিক নয় বরং এটি একটি অ্যালকোহলযুক্ত ঐতিহ্যবাহী পানীয়, যা সতর্কতার সঙ্গে গ্রহণ করা উচিত।

আরটিভি/এসকে