রোববার, ১২ এপ্রিল ২০২৬ , ১০:২২ এএম
রাতের ঘুটঘুটে অন্ধকারে অনেকেই অবাক হন, মশা কীভাবে ঠিক মানুষকেই খুঁজে নেয়? আলো না থাকলেও নিখুঁতভাবে শরীরের কাছে এসে কামড় বসায় ছোট্ট এই প্রাণীটি। বিষয়টি মোটেও কাকতালীয় নয়। বরং এর পেছনে রয়েছে জটিল ও চমকপ্রদ বৈজ্ঞানিক প্রক্রিয়া।
গবেষকদের মতে, মশা মানুষ খুঁজে বের করতে একাধিক ইন্দ্রিয় সংকেত ব্যবহার করে। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাস, শরীরের তাপ এবং ত্বকের গন্ধ। এই তিনটি সংকেতই অন্ধকারেও মশাকে সঠিক লক্ষ্য খুঁজে নিতে সাহায্য করে।
শ্বাস-প্রশ্বাসের সংকেত
মানুষ শ্বাস নেওয়া-ছাড়ার সময় কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস নির্গত করে। মশা এই গ্যাসের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। বাতাসে সামান্য পরিবর্তন পেলেই তারা বুঝে যায় কাছাকাছি কোনো মানুষ আছে। এরপর ধীরে ধীরে সেই দিকেই এগিয়ে যায়।
শরীরের তাপ শনাক্ত করার ক্ষমতা
মশার শরীরে বিশেষ ধরনের অনুভূতি গ্রহণক্ষমতা থাকে। যা মানুষের শরীরের উষ্ণতা শনাক্ত করতে পারে। আলো না থাকলেও তারা এই তাপের উৎস খুঁজে নিতে সক্ষম হয়। ফলে অন্ধকার ঘরেও মানুষকে খুঁজে পাওয়া তাদের জন্য সহজ হয়ে যায়।
ত্বকের গন্ধ ও রাসায়নিক সংকেত
মানুষের ত্বক থেকে ল্যাকটিক অ্যাসিড ও অ্যামোনিয়ার মতো বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থ বের হয়। এই গন্ধ মশাকে বিশেষভাবে আকৃষ্ট করে। প্রতিটি মানুষের শরীরের গন্ধ আলাদা হওয়ায় মশার আকর্ষণও ভিন্ন ভিন্ন হয়। তাই কিছু মানুষকে বেশি কামড়ানোও দেখা যায়।
কেন কিছু মানুষ বেশি শিকার হয়
সব মানুষ মশার কাছে সমান আকর্ষণীয় নয়। কারো ঘাম, ত্বকের রাসায়নিক গঠন বা শরীরের গন্ধ বেশি শক্তিশালী হলে মশা তাদের দিকে বেশি আকৃষ্ট হয়। একই জায়গায় কয়েকজন থাকলেও মশা নির্দিষ্ট একজনকেই বেশি কামড়াতে পারে।
কেন রাতে মশা বেশি সক্রিয়
মশার শরীরে থাকা প্রাকৃতিক ঘড়ি তাদের রাতে বেশি সক্রিয় করে তোলে। রাতে পরিবেশ শান্ত থাকে এবং মানুষ ঘুমিয়ে থাকে বলে তাদের জন্য শিকার খুঁজে পাওয়া সহজ হয়। এই সময় তারা সহজেই রক্ত সংগ্রহ করতে পারে।
মশা অন্ধকারে মানুষ খুঁজে পায় কোনো একক উপায়ে নয়। বরং শ্বাসের গ্যাস, শরীরের তাপ এবং গন্ধ, এই তিনটি শক্তিশালী সংকেত একসঙ্গে ব্যবহার করেই।
সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
আরটিভি/জেএমএ