images

লাইফস্টাইল / রূপচর্চা / পরামর্শ

গরমেও কেন ফাটছে গোড়ালি? 

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬ , ১০:১০ এএম

গরমের সময়ও অনেকের পায়ের গোড়ালি ফেটে যায়। এটি একটি সাধারণ সমস্যা হলেও অবহেলা করলে ব্যথা, রক্তপাত এমনকি সংক্রমণ পর্যন্ত হতে পারে। মূলত পায়ের ত্বক শুষ্ক হয়ে গেলে এবং সেখানে মোটা শক্ত চামড়ার স্তর তৈরি হলে এই সমস্যা দেখা দেয়।

চিকিৎসকদের মতে, পায়ের গোড়ালিতে চাপ বেশি পড়ে। তাই শরীর নিজেকে রক্ষা করতে সেখানে ত্বককে মোটা করে তোলে। এই মোটা স্তরকে বলা হয় শক্ত চামড়া। সময়ের সঙ্গে এটি আরও শুষ্ক ও শক্ত হয়ে ফেটে যেতে পারে।

গোড়ালি ফাটার কারণ

গোড়ালি ফাটার পেছনে রয়েছে নানা কারণ। শুষ্ক আবহাওয়া, অতিরিক্ত গরম বা ঠান্ডা, গরম পানিতে বেশি সময় গোসল, ক্ষতিকর সাবান ব্যবহার এবং পা নিয়মিত ময়েশ্চারাইজ না করাও এর অন্যতম কারণ। পাশাপাশি একজিমা, সোরিয়াসিস ও ফাঙ্গাল সংক্রমণের মতো ত্বকের সমস্যাতেও ত্বকের আর্দ্রতা কমে যায়।

শারীরিক কারণও এতে ভূমিকা রাখে। ডায়াবেটিস, স্নায়ুর সমস্যা, অপুষ্টি, ভিটামিন ও প্রয়োজনীয় চর্বির ঘাটতি, ধূমপান এবং কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায়ও গোড়ালি ফাটতে পারে। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল কমে যাওয়ায় এই সমস্যা আরও বাড়ে। এছাড়া পানি স্বল্পতাও একটি বড় কারণ।

গোড়ালি ফাটার লক্ষণ ও ঝুঁকি 

গোড়ালি ফাটার লক্ষণ হিসেবে দেখা যায় শুষ্ক ও খসখসে ত্বক, মোটা চামড়া, দৃশ্যমান ফাটল, হাঁটার সময় ব্যথা এবং গুরুতর ক্ষেত্রে রক্তপাত। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, গভীর ফাটলে জীবাণু ঢুকে সংক্রমণ হতে পারে। কখনো কখনো এটি গুরুতর রূপ নিয়ে দ্রুত চিকিৎসার প্রয়োজনও হতে পারে।

আরও পড়ুন
Web-Image

বিশ্বজুড়ে সাড়া ফেলছে গাবা চা

গোড়ালি ফাটা প্রতিরোধের উপায়

এই সমস্যা প্রতিরোধে নিয়মিত পায়ের যত্ন নেওয়া জরুরি। দিনে অন্তত দুইবার ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার, বিশেষ করে গোসলের পর ও রাতে ঘুমানোর আগে উপকারী। ইউরিয়া, গ্লিসারিন বা হায়ালুরোনিক অ্যাসিডযুক্ত ক্রিম ব্যবহার করলে ভালো ফল পাওয়া যায়। আরামদায়ক জুতা পরা, খালি পায়ে না হাঁটা এবং নিয়মিত পিউমিস স্টোন দিয়ে মৃত চামড়া পরিষ্কার করাও উপকারী। তবে ধারালো কিছু দিয়ে চামড়া কাটতে নিষেধ করা হয়। 

ঘরোয়া যত্ন

ঘরোয়া যত্নের মধ্যে কুসুম গরম পানিতে পা ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর হালকা করে চামড়া পরিষ্কার করা এবং নারকেল তেল বা অলিভ অয়েল ব্যবহার করা ভালো ফল দেয়। মধুও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল হিসেবে কাজ করতে পারে।

কয়েক সপ্তাহেও সমস্যা না কমলে, ব্যথা, ফোলা বা রক্ত-পুঁজ বের হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি বলে বিশেষজ্ঞরা জানান।

মূলত, গোড়ালি ফাটা সাধারণ সমস্যা হলেও নিয়মিত যত্ন নিলে সহজেই এটি প্রতিরোধ করা সম্ভব।

 

আরটিভি/জেএমএ