images

লাইফস্টাইল

যেভাবে গোসল করলে এই গরমে দীর্ঘক্ষণ ঠান্ডা থাকবে শরীর

সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬ , ১১:৪১ এএম

দেশজুড়ে বয়ে যাচ্ছে তাপপ্রবাহ, তীব্র গরমে হাঁসফাঁস করছে জনজীবন। শুধু বাইরেই নয়; ঘরের ভেতরেও গরমের অস্বস্তি থেকে মুক্তি মেলা ভার। সব মিলিয়ে দিন পার করাই যেন কঠিন এক চ্যালেঞ্জ এই গরমে। তবে কিছু সহজ ঘরোয়া পদ্ধতি অনুসরণ করলে শুধু গোসলের মাধ্যমেই শরীরকে অনেকক্ষণ ঠান্ডা ও রিফ্রেশ রাখা সম্ভব। সঠিক উপায়ে গোসল করলে শুধু গরম কমে না, বরং শরীর ও মন দুটোই চাঙ্গা থাকে।

ঘরেই তৈরি করুন স্পা বাথ

গরমে স্বস্তি পেতে চাইলে ঘরেই সহজে স্পা বাথ তৈরি করতে পারেন। এর জন্য গোসলের পানিতে সামান্য বাথ সল্ট মিশিয়ে নিন। এটি শরীরের ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে এবং ত্বককে নরম ও সতেজ রাখে। আরও ভালো ফল পেতে পানিতে অল্প গোলাপ জল এবং পুদিনা পাতার রস মিশিয়ে নিতে পারেন। পুদিনা শরীরে শীতলতা আনে, আর গোলাপের সুগন্ধ মনকে প্রশান্ত করে। এই পানিতে গোসল শেষে একবার পরিষ্কার ঠান্ডা পানি দিয়ে শরীর ধুয়ে নিন। এতে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত কমে যায় এবং দীর্ঘ সময় ঠান্ডা অনুভূতি বজায় থাকে।

ব্যবহার করুন গোলাপ জল 

গোসলের পানিতে গোলাপ পানি ব্যবহার করা একটি সহজ কিন্তু কার্যকর পদ্ধতি। এটি ত্বকের জন্য প্রাকৃতিক টোনার হিসেবে কাজ করে এবং গরমে ত্বককে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। বাজারে সহজেই গোলাপ পানি পাওয়া যায়, তবে চাইলে ঘরেই তৈরি করা সম্ভব। গোলাপের পাপড়ি পানিতে ফুটিয়ে নিয়ে সেই পানি ঠান্ডা করে ছেঁকে নিন। এরপর এতে অল্প গ্লিসারিন মিশিয়ে রাখলে এটি আরও কার্যকর হয়। এই মিশ্রণ গোসলের পানিতে ব্যবহার করলে সারাদিন শরীর সতেজ ও আরামদায়ক অনুভূত হয়।

প্রাকৃতিক সুগন্ধি ব্যবহার করুন

গরমে শরীরকে সতেজ ও সুগন্ধি রাখতে অনেকেই গোসলের পানিতে অল্প ব্যবহার করেন। এক বালতি পানিতে কয়েক ফোঁটা ল্যাভেন্ডার এসেনশিয়াল অয়েল মিশিয়ে গোসল করলে শরীর দীর্ঘ সময় ফ্রেশ থাকে এবং ঘামের দুর্গন্ধ কমে। তবে এর ব্যবহার সীমিত রাখা জরুরি, কারণ অতিরিক্ত ব্যবহার ত্বক শুষ্ক করে দিতে পারে। যারা প্রাকৃতিক উপায় পছন্দ করেন, তারা সাদা চন্দন বেটে পানিতে মিশিয়ে নিতে পারেন। এর সঙ্গে পুদিনা পাতা বেটে মিশিয়ে গোসল করলে শরীরে অতিরিক্ত শীতলতা আসে এবং একটি আরামদায়ক অনুভূতি তৈরি হয়।

গোসলের পানির তাপমাত্রা যেমন রাখবেন

অনেকেই গরমে খুব ঠান্ডা পানি ব্যবহার করতে চান, কিন্তু অতিরিক্ত ঠান্ডা পানি সব সময় ভালো নয়। হালকা ঠান্ডা বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানি ব্যবহার করাই সবচেয়ে ভালো। খুব গরম পানি ব্যবহার করলে শরীরের তাপমাত্রা আরও বেড়ে যেতে পারে, যা গরমে অস্বস্তি বাড়ায়। তাই সবসময় মাঝামাঝি তাপমাত্রার পানি বেছে নেওয়া উচিত।

আরও পড়ুন
Web-Image

জীবনসঙ্গীকে যে ৪ বিষয় কখনোই বলবেন না

গোসলের পর যা করবেন

গোসলের পর কী করছেন, সেটিও শরীর ঠান্ডা রাখার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। গোসল শেষে হালকা ও ঢিলেঢালা সুতির কাপড় পরা উচিত। সুতির কাপড় বাতাস চলাচল সহজ করে এবং ঘাম দ্রুত শুকাতে সাহায্য করে। এতে শরীর দীর্ঘ সময় ঠান্ডা থাকে। এছাড়া গোসলের পর সরাসরি রোদে না যাওয়াই ভালো, এতে শরীর আবার দ্রুত গরম হয়ে যেতে পারে।

গরমের সময় শুধু বারবার গোসল করলেই হবে না, বরং সঠিক পদ্ধতিতে গোসল করাটাই আসল বিষয়। গোসলের পানিতে কিছু প্রাকৃতিক উপাদান যোগ করলে শরীর অনেকক্ষণ ঠান্ডা থাকে। এর পাশাপাশি সঠিক তাপমাত্রার পানি ব্যবহার এবং গোসলের পর সঠিক পোশাক নির্বাচন করলে গরমে স্বস্তি পাওয়া অনেক সহজ হয়ে যায়। একটু সচেতন হলেই এই তীব্র গরমেও নিজেকে রাখা যায় ঠান্ডা, সতেজ ও আরামদায়ক।

আরটিভি/এসএইচএম