সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬ , ০৯:৫৩ পিএম
ভালো ঘুমের কথা উঠলে আমরা সাধারণত সময়ের দিকে বেশি গুরুত্ব দিই। রোজ ৭ থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করি নিয়ম করে। কিন্তু সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, আপনি কতক্ষণ ঘুমাচ্ছেন তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে আপনি প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাচ্ছেন কি না।
বিভিন্ন বড় গবেষণা ও ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় দেখা গেছে, নিয়মিত একই সময়ে ঘুমানো ও জাগা মানসিক দক্ষতা বাড়ায়, মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি করে, বিপাকক্রিয়া ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভালো রাখে, হৃদযন্ত্রকে শক্তিশালী করে এবং ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
ঘুম বিশেষজ্ঞ ওয়েন্ডি ট্রক্সেল বলেন, নিয়মিত ঘুমের সময়সূচি বজায় রাখা দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যের জন্য খুব সহজ কিন্তু প্রায়ই উপেক্ষিত একটি উপায়।
আরেক গবেষক শাদাব রহমানের মতে, ঘুমের নিয়মিততা অনেক সময় মৃত্যুঝুঁকির পূর্বাভাস দিতে ঘুমের দৈর্ঘ্যের চেয়েও বেশি কার্যকর।
কেন নিয়মিত সময় গুরুত্বপূর্ণ?
আমাদের শরীরে একটি অভ্যন্তরীণ ঘড়ি থাকে, যাকে ‘সার্কাডিয়ান রিদম’ বলা হয়। এটি ঠিক করে আমরা কখন ঘুমাবো বা জেগে থাকব। একই সময়ে ঘুমালে ও জাগলে এই ছন্দ সাভাবিকভবেই ঠিক থাকে।
এর ফলে শরীরে মেলাটোনিন (ঘুমের হরমোন) ও কর্টিসল (জাগ্রত হওয়ার হরমোন) সঠিক সময়ে নিঃসৃত হয়। এতে ঘুমের মান ভালো হয় এবং শরীরের গুরুত্বপূর্ণ কাজ যেমন স্মৃতি সংরক্ষণ, কোষ মেরামত ও মস্তিষ্ক পরিষ্কার হওয়া ঠিকভাবে সম্পন্ন হয়।
হৃদযন্ত্র ও বিপাকক্রিয়ায় প্রভাব
অনিয়মিত ঘুমের সময়সূচি রক্তচাপের ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে, শরীরে প্রদাহ বাড়াতে পারে এবং গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে সমস্যা তৈরি করতে পারে। এতে দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা অন্যান্য জটিলতা দেখা দিতে পারে।
এক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা নিয়মিত এক সময়ে ঘুমায়, তাদের হৃদযন্ত্র ভালো থাকে এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে।
মস্তিষ্কের স্বাস্থ্য ও স্মৃতিশক্তি
নিয়মিত ঘুম মস্তিষ্কের জন্যও খুব গুরুত্বপূর্ণ। গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের ঘুমের সময়সূচি স্থির, তাদের চিন্তাশক্তি ভালো থাকে এবং মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিনের মাত্রাও বেশি থাকে, যা স্মৃতি ধরে রাখতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, অনিয়মিত ঘুম ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
কীভাবে নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস গড়ে তুলবেন?
আজকের ব্যস্ত জীবনে নিয়মিত ঘুমের সময় বজায় রাখা কঠিন হতে পারে। তবে গবেষণা বলছে, আপনি যদি প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে ও জাগতে পারেন, তাহলে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদে এর উপকারিতা অনেক বেশি।
অর্থাৎ, শুধু কত ঘণ্টা ঘুমাচ্ছেন তা নয়— আপনি কখন ঘুমাচ্ছেন, সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র : ন্যশনাল জিওগ্রাফিক
আরটিভি/এসআর