images

লাইফস্টাইল

বজ্রপাতে নিজেকে নিরাপদ রাখবেন যেভাবে

মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬ , ১২:০৭ পিএম

বর্ষা মৌসুম মানেই প্রকৃতিতে সজীবতার ছোঁয়া কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে এই বর্ষা বা প্রাক বর্ষার কাল যেন মানুষের জীবনের জন্য এক অশনিসংকেত হয়ে দাঁড়িয়েছে। আকাশ কালো করে আসা মেঘের সাথে যখন বিদ্যুতের ঝলকানি শুরু হয়, তখন তা হয়ে ওঠে মৃত্যুর দূত। প্রতি বছর বিশ্বের নানা প্রান্তে অসংখ্য মানুষের প্রাণ কেড়ে নেয় এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ। বাংলাদেশ এখন ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বিশ্বের অন্যতম বজ্রপাতপ্রবণ দেশগুলোর একটি। বিশেষ করে গ্রীষ্মের শুরু থেকে দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চলে বজ্রপাতের তীব্রতা যে হারে বাড়ছে, তা রীতিমতো আতঙ্কজনক।

এরই মধ্যে গত কয়েক দিনে দেশের বিভিন্ন জেলায় বজ্রপাতে কমপক্ষে ২০ জন মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। তাই বজ্রপাত থেকে বাঁচতে আমাদের কিছু করণীয় মেনে চলা উচিত। 

বজ্রপাত অত্যন্ত শক্তিশালী ও প্রাণঘাতী একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ। এটি শুধু প্রাণই কাড়ে না, বরং যারা প্রাণে বেঁচে ফেরেন, তাদের শরীরেও রেখে যায় দীর্ঘস্থায়ী আঘাত। বজ্রাঘাতের ফলে পেশিতে তীব্র ব্যথা, হাড়ভাঙা, কানে কম শোনা, খিঁচুনি, শরীর পুড়ে যাওয়া এবং চোখে ছানি পড়ার মতো সমস্যা তৈরি হতে পারে। এমনকি বজ্রপাতের তীব্রতায় মানুষের কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট বা হৃৎস্পন্দন বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিও তৈরি হয়। তাই বজ্রঝড় শুরু হলে দ্রুত শক্ত ও নিরাপদ ভবনের ভেতরে আশ্রয় নেওয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই।

আরও পড়ুন
Web-Image

বজ্রপাতে মৃত্যু কেন বাড়ছে? ঝুঁকিতে রয়েছেন যারা 

বজ্রপাতের সময় নিরাপদ থাকতে হলে কিছু নিয়ম মেনে চলা একান্ত প্রয়োজন। যদি বাড়ির ভেতরে থাকেন তবে জানালা ও দরজা বন্ধ রাখুন। বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বা ল্যান্ডফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন। বজ্রপাত সরাসরি ভবনে না পড়লেও বৈদ্যুতিক পরিবাহীর মাধ্যমে এর প্রভাব ঘরের ভেতর ছড়িয়ে পড়তে পারে। পানির কল, শাওয়ার বা যে কোনো জলাধার থেকে দূরে থাকুন। কারণ পানি বিদ্যুৎ খুব ভালো পরিবহণ করে, তাই এই সময়ে পানির সংস্পর্শে থাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।

এদিকে,বজ্রপাতের সময় যদি বাইরে থাকলেন তবে আশ্রয় হিসেবে গাছের নিচে দাঁড়ানো যাবে না। অনেকেই বৃষ্টির সময় গাছের নিচে আশ্রয় নেন যা সবচেয়ে বড় ভুল। বজ্রপাত সাধারণত উঁচু গাছে আঘাত করে এবং সেখান থেকে বিদ্যুৎ মাটিতে প্রবাহিত হয়। এর ফলে গাছের কাছে থাকা ব্যক্তিও তড়িতাহত হতে পারেন। এছাড়া উঁচু বিদ্যুতের খুঁটি বা ধাতব বস্তু থেকেও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন। গাড়ির ভেতরে থাকলে জানালা বন্ধ রেখে ভেতরে অবস্থান করাই সবচেয়ে নিরাপদ উপায়।

রাস্তায় চলাচলের সময় জুতার ব্যাপারে সতর্ক থাকা জরুরি। খালি পায়ে থাকা খুবই বিপজ্জনক। রাবারের সোলযুক্ত জুতা বা স্যান্ডেল পরলে তা কিছুটা সুরক্ষা দেয়, কারণ রাবার বিদ্যুৎ অপরিবাহী। বজ্রপাতের সময় কম্পিউটার বা মোবাইল ফোন ব্যবহার থেকে বিরত থাকা উচিত। ঝড়ের তীব্রতা কমে গেলেও সাথে সাথে বাইরে বের হবেন না। বজ্রধ্বনির অন্তত ৩০ মিনিট পর নিরাপদ মনে হলে বাইরে বের হওয়া উচিত। কারণ ঝড় থেমে গেলেও বজ্রপাতের ঝুঁকি পুরোপুরি শেষ হয় না।

বজ্রপাতের ঝুঁকি মোকাবিলায় শিশুদের প্রশিক্ষণ দেওয়াও খুব জরুরি। শিশুরা বজ্রপাতের শব্দে অনেক বেশি ভয় পায়, যা তাদের মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। তাই তাদের আগে থেকেই সহজ করে শিখিয়ে রাখুন, যাতে সংকটময় মুহূর্তে তারা ভয় না পেয়ে সুরক্ষিত স্থানে আশ্রয় নিতে পারে। স্থানীয় আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও সতর্কবার্তা নিয়মিত অনুসরণ করুন। ঝড়প্রবণ এলাকায় বসবাস করলে আগে থেকেই নিরাপদ আশ্রয় ও যোগাযোগের পরিকল্পনা তৈরি করে রাখুন। মনে রাখবেন, বজ্রপাত থেকে সুরক্ষার একমাত্র উপায় হলো সচেতনতা ও সঠিক সময়ে নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা। প্রতিটি মানুষের জীবন মূল্যবান, তাই সামান্য অবহেলায় যেন প্রাণ না যায়, সেদিকে আমাদের সজাগ দৃষ্টি রাখতে হবে।
 আরটিভি/এআর