বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬ , ০৯:৪৮ এএম
অনেকেই কম ওজনের সমস্যায় ভোগেন। এতে শরীর দুর্বল হয়ে যায়। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যেতে পারে। ঠিকমতো খাবার না পেলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় না। ফলে সার্বিকভাবে স্বাস্থ্য খারাপ হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
কম ওজনের পেছনের কারণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, কম ওজনের পেছনে নানা কারণ থাকতে পারে। যেমন পারিবারিক গঠন, মানসিক চাপ, হজমের সমস্যা, থাইরয়েডের সমস্যা, দীর্ঘমেয়াদি রোগ বা অনিয়মিত খাবার অভ্যাস। এসব কারণে শরীরে প্রয়োজনীয় পুষ্টি ঠিকমতো জমতে পারে না।
লক্ষ্য হওয়া উচিত স্বাস্থ্যকর ওজন বৃদ্ধি
ওজন বাড়ানোর মূল লক্ষ্য শুধু মোটা হওয়া নয়। বরং শক্তিশালী পেশি ও সুস্থ শরীর গড়ে তোলা জরুরি। তাই স্বাস্থ্যকর খাবার ও নিয়মিত অভ্যাসের মাধ্যমে ওজন বাড়ানো সবচেয়ে নিরাপদ।
খাবারের সঠিক অভ্যাস
দিনে তিনবার বড় খাবারের বদলে পাঁচ থেকে ছয়বার অল্প অল্প করে খাওয়া ভালো। এতে শরীর সহজে পুষ্টি গ্রহণ করতে পারে এবং হজমও ভালো থাকে।
পুষ্টিকর খাবারের গুরুত্ব
দুধ, ডিম, মাছ, মুরগি, ডাল, কলা, আলু, মিষ্টি আলু, বাদাম, ঘি ও দই ওজন বাড়াতে সাহায্য করে। এসব খাবার শরীরে শক্তি যোগায় এবং পেশি গঠনে সাহায্য করে।
প্রোটিনের ভূমিকা
ডিম, মুরগি, ছানা, দই ও ডাল প্রোটিনের ভালো উৎস। এগুলো পেশি শক্তিশালী করে এবং শরীরকে সুগঠিত করে তোলে।
ব্যায়ামের প্রয়োজনীয়তা
হালকা ব্যায়াম যেমন স্কোয়াট, পুশ আপ ও স্ট্রেচিং করলে পেশি বাড়ে এবং ক্ষুধা বাড়ে। এতে খাবার থেকে পাওয়া পুষ্টি শরীরে ভালোভাবে কাজে লাগে।
ঘুম ও বিশ্রাম
প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম শরীরের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। ঘুমের সময় শরীর নিজেকে পুনরুদ্ধার করে। যা ওজন বাড়াতে সাহায্য করে।
নিয়মিত জীবনযাপনের গুরুত্ব
নির্দিষ্ট সময় মেনে খাবার খেলে শরীর ভালোভাবে ক্যালোরি জমাতে পারে। অনিয়মিত জীবনযাপন ওজন বাড়ানোর পথে বাধা সৃষ্টি করে।
যেসব অভ্যাস এড়িয়ে চলা উচিত
ফাস্ট ফুড, খাবার বাদ দেওয়া, অতিরিক্ত চাপ এবং অনিয়মিত খাওয়ার অভ্যাস ওজন বাড়াতে বাধা দেয়। এগুলো শরীরকে আরও দুর্বল করে তুলতে পারে।
ওজন বাড়ানো কোনো দ্রুত প্রক্রিয়া নয়। ধৈর্য, সঠিক খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত ঘুম—এই চারটি অভ্যাস মেনে চললে ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যকরভাবে ওজন বাড়ানো সম্ভব।
আরটিভি/জেএমএ