মঙ্গলবার, ০৫ মে ২০২৬ , ১১:৪৫ এএম
রাতে নিয়ম করে ঘুমাচ্ছেন প্রায় নয় ঘণ্টা। ঘুমানোর সময়ও ঠিকঠাক। তবু সকাল হতেই শরীর যেন ভারী, চোখে ঝিমুনি, মনোযোগে ভাটা। অফিস বা দৈনন্দিন কাজে বসে কিছুক্ষণ পরই ক্লান্তি ঘিরে ধরে।
অনেকেই ভাবেন, হয়তো আরও একটু ঘুম হলেই সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সমস্যা ঘুমের সময় নয়, ঘুমের মানে।
জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের একজন বিশেষজ্ঞ গণমাধ্যমকে জানান, শুধু বিছানায় দীর্ঘ সময় কাটালেই শরীর বিশ্রাম পায় না। ঘুম যদি বারবার ভেঙে যায় বা গভীর ঘুম ঠিকমতো না হয়। তাহলে শরীর পূর্ণ আরাম পায় না। ফলে সকালেই ক্লান্তি থেকে যায়।
ঘুমের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হলো গভীর ঘুম। এই সময়েই শরীর নিজেকে মেরামত করে, আর মস্তিষ্ক বিশ্রাম নেয়। এই ধাপ ঠিকভাবে না হলে দীর্ঘ সময় ঘুমালেও সতেজ অনুভূতি আসে না।
অনেকের ক্ষেত্রে ঘুমের মধ্যে শ্বাস নিতে সমস্যা হয়। ঘুমের সময় অজান্তে শ্বাস কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে আবার শুরু হতে পারে। এতে ঘুম বারবার ভেঙে যায়, যদিও ব্যক্তি তা বুঝতে পারেন না। সকালে মাথাব্যথা, সারাদিন ঝিমুনি আর ক্লান্তি দেখা দেয়। অনেকেই এটাকে সাধারণ ক্লান্তি ভেবে এড়িয়ে যান, কিন্তু এটি চিকিৎসাযোগ্য একটি সমস্যা।
শরীরে রক্তস্বল্পতা থাকলেও ঘুম ঠিক হলেও ক্লান্তি কাটে না। আয়রনের অভাবে রক্তে অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায়। ফলে দুর্বলতা ও ঝিমুনি সারাক্ষণ লেগে থাকে। বিশেষ করে নারীদের মধ্যে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়।
থাইরয়েড হরমোন কম বা বেশি হলে শরীরের স্বাভাবিক গতি নষ্ট হয়। এতে সব কাজ ধীর মনে হয়, ক্লান্তি বাড়ে, এমনকি ওজনেও পরিবর্তন আসে। একইভাবে রক্তে শর্করার ওঠানামাও ঘুম ঘুম ভাবের বড় কারণ হতে পারে।
মানসিক চাপ ও দীর্ঘদিনের দুশ্চিন্তাও শরীরকে ক্লান্ত করে তোলে। অনেক সময় মন খারাপ বা বিষণ্নতা থাকলেও শরীরে ভারী ক্লান্তি অনুভূত হয়। বেশি ঘুমালেও শক্তি ফিরে আসে না, কাজের আগ্রহ কমে যায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু অভ্যাস বদলালেই অনেকটা উপকার পাওয়া যায়। প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমানো ও জাগার অভ্যাস, ঘুমের আগে মোবাইল ব্যবহার কমানো, হালকা শরীরচর্চা ও সুষম খাবার—এসব ঘুমের মান উন্নত করে।
তবে যদি কয়েক সপ্তাহ ধরে অতিরিক্ত ঝিমুনি, ক্লান্তি বা ঘুমের সমস্যা চলতে থাকে, তাহলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। একটি সাধারণ রক্ত পরীক্ষা বা চিকিৎসকের পরামর্শেই অনেক সময় আসল কারণ ধরা পড়ে।
ঘুম বেশি নয়, প্রয়োজন সঠিক ঘুম। আর ক্লান্তির আসল কারণ খুঁজে বের করাই সমাধানের প্রথম ধাপ।
আরটিভি/জেএমএ