রোববার, ১০ মে ২০২৬ , ১০:১০ এএম
প্রতিদিনই আমাদের অনেক ছোট-বড় সিদ্ধান্ত নিতে হয়। কখনও আমরা অনেক ভেবে করি, আবার কখনও হঠাৎ মনের ভেতর থেকে একটা- এটাই ঠিক হবে টাইপ অনুভূতি চলে আসে। মজার ব্যাপার হলো, এই ভেতরের ইশারাটাই অনেক সময় আমাদের সঠিক পথ দেখায়। আর এই মনের ভেতরের অনুভূতি বা অন্তর্দৃষ্টিকে গুরুত্ব দিতে পালন করা হয় নিজের অন্তর্দৃষ্টিকে বিশ্বাস করার দিন।
এই দিনটি মানুষকে নিজের ভেতরের অনুভূতির ওপর আস্থা রাখতে উৎসাহ দেয়। অনেক সময় যুক্তি বা বিশ্লেষণের আগেই মন পরিস্থিতি সম্পর্কে একটি ইঙ্গিত দেয়, যাকে বলা হয় অন্তর্দৃষ্টি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিকভাবে এই অনুভূতিকে বুঝতে পারলে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আত্মবিশ্বাস বাড়ে এবং জটিল পরিস্থিতিও সহজ হয়ে ওঠে। এটি আত্মসচেতনতা ও ব্যক্তিগত বিকাশের দিকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষের অবচেতন মন অতীত অভিজ্ঞতা থেকে তথ্য সংগ্রহ করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে। ফলে অনেক ক্ষেত্রে এই ভেতরের অনুভূতি বাস্তব পরিস্থিতি বুঝতে কার্যকর ভূমিকা রাখে।
গবেষণায় দেখা গেছে, মানুষ যাকে গাট ফিলিং বলে, তার পেছনেও শরীরের জৈবিক প্রক্রিয়া কাজ করে। বিশেষ করে যারা শরীরের সূক্ষ্ম পরিবর্তন বুঝতে পারেন, তারা অনিশ্চিত পরিস্থিতিতে বেশি সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হন।
অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করেও এই অনুভূতি তৈরি হয়। অগ্নিনির্বাপণ, চিকিৎসা বা সামরিক বাহিনীর মতো পেশায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে অনেক সময় বিশ্লেষণের আগেই সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছান অভিজ্ঞরা।
মনোবিজ্ঞানী ড্যানিয়েল কাহনেম্যানের গবেষণায় মানুষের চিন্তাকে দুটি ভাগে ব্যাখ্যা করা হয়েছে—একটি দ্রুত ও স্বতঃস্ফূর্ত, অন্যটি ধীর ও বিশ্লেষণধর্মী। দৈনন্দিন জীবনে দ্রুত সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, সব সময় শুধুই অনুভূতির ওপর নির্ভর করা ঠিক নয়। যুক্তি, অভিজ্ঞতা এবং অন্তর্দৃষ্টির মধ্যে ভারসাম্য রাখলেই সিদ্ধান্ত আরও কার্যকর ও সঠিক হতে পারে।
তাই মনের ভেতরের সেই নীরব ইশারা কখনও কখনও বড় সিদ্ধান্তের পথ দেখালেও, সেটিকে যুক্তির সঙ্গে মিলিয়ে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।
আরটিভি/জেএমএ