images

লাইফস্টাইল / স্বাস্থ্য পরামর্শ

তিসি-তিল-কুমড়ার মতো বীজজাতীয় খাবার: কারা খাবেন, কারা খাবেন না

সোমবার, ১১ মে ২০২৬ , ০১:৫৭ পিএম

বর্তমানে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের খাদ্যতালিকায় জায়গা করে নিয়েছে নানা ধরনের বীজজাতীয় খাবার। তিসি, চিয়া, তিল, সূর্যমুখী ও কুমড়ার বীজ পুষ্টিগুণে ভরপুর হওয়ায় এগুলোকে অনেকেই ‘সুপারফুড’ হিসেবে বিবেচনা করেন।

তবে সব খাবারের মতো এসব বীজও সবার জন্য সমান উপকারী নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক পরিমাণে গ্রহণ করলে এসব বীজ শরীরের জন্য উপকারী হলেও কিছু ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি।

বীজজাতীয় খাবারে রয়েছে উদ্ভিজ্জ ফ্যাট, ফাইবার, প্রোটিন, আয়রন, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, পটাশিয়াম, ফসফরাস, জিংক ও ফলিক অ্যাসিডসহ নানা খনিজ উপাদান। এগুলো অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে, দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে এবং শরীরের পুষ্টির ঘাটতি পূরণে সহায়তা করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ প্রতিদিন ২০ থেকে ৩০ গ্রাম পর্যন্ত বীজ খেতে পারেন।

কোন বীজে কী উপকার

তিসির বীজ

তিসির বীজে রয়েছে ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড, প্রোটিন ও ফাইবার। এটি রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে এবং হৃদ্‌যন্ত্র সুস্থ রাখে। তিসিতে থাকা লিগানন নামের অ্যান্টিম অক্সিডেন্ট প্রদাহ কমাতে সহায়ক এবং হৃদ্‌রোগ ও ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতেও এটি কার্যকর।

চিয়ার বীজ

চিয়ার বীজ পানিতে দ্রবণীয় ফাইবারসমৃদ্ধ। পানি শোষণ করে এটি ফুলে ওঠে এবং দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণ, কোলেস্টেরল কমানো ও হজম ভালো রাখতে চিয়া কার্যকর ভূমিকা রাখে।

কুমড়ার বীজ

কুমড়ার বীজে রয়েছে পটাশিয়াম, জিংক ও ক্যালসিয়াম, যা হাড় মজবুত রাখতে সাহায্য করে। এতে থাকা ট্রিপটোফ্যান শরীরে সেরোটোনিন ও মেলাটোনিন নিঃসরণে সহায়তা করে, যা মানসিক চাপ কমাতে ও ভালো ঘুমে সহায়ক। এটি খারাপ কোলেস্টেরল কমাতেও ভূমিকা রাখে।

সূর্যমুখীর বীজ

ভিটামিন-ই ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাটসমৃদ্ধ সূর্যমুখীর বীজ হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী। এতে থাকা সেলেনিয়াম অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে এবং কিছু ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।

তিলের বীজ 

তিলে রয়েছে প্রচুর খনিজ ও ফাইবার। পাশাপাশি সেলেনিয়াম নামের অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট দীর্ঘস্থায়ী রোগের ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করে।

কারা এড়িয়ে চলবেন

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যাদের লিভার বা কিডনির জটিলতা রয়েছে কিংবা অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণে নিষেধ আছে, তাদের বীজজাতীয় খাবার সতর্কতার সঙ্গে খেতে হবে। কারণ কিছু বীজ ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বাড়াতে পারে।

এ ছাড়া যাদের আইবিএস (ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম) রয়েছে বা বীজজাতীয় খাবারে অ্যালার্জি আছে, তাদেরও এসব খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে খাদ্যতালিকায় বীজ অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দিয়েছেন পুষ্টিবিদরা।

আরটিভি/এসকে