images

লাইফস্টাইল / স্বাস্থ্য পরামর্শ

প্রতিদিন হাঁটলেই মিলতে পারে শক্তিশালী শরীর

বুধবার, ১৩ মে ২০২৬ , ০৯:৫৬ এএম

প্রতিদিন আমরা হাঁটাকে খুব সাধারণ একটি কাজ হিসেবে দেখি। অনেকেই মনে করেন, শরীর গঠন বা শক্তি বাড়াতে শুধু ভারী ব্যায়াম বা জিমই দরকার। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধারণা পুরোপুরি ঠিক নয়। হাঁটা শুধু শরীর নড়ানোর কাজ নয়, এটি মানবদেহের সবচেয়ে মৌলিক ও গুরুত্বপূর্ণ গতির একটি অংশ।

হাঁটার সময় আমাদের শরীরের প্রায় সব অংশ একসঙ্গে কাজ করে—পা, গোড়ালি, হাঁটু, কোমর, মেরুদণ্ড, বুক এমনকি কাঁধও। প্রতিটি পদক্ষেপে দেহের ভার এক পা থেকে আরেক পায়ে স্থানান্তরিত হয়। এই সময় কোমর ও পায়ের স্বাভাবিক ঘূর্ণন, হাতের দোলন এবং পেশির সমন্বিত কাজ শরীরকে ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিকভাবে হাঁটা শুধু চলাফেরার দক্ষতা বাড়ায় না, বরং শরীরের শক্তি ব্যবহারের ধরনকেও উন্নত করে। এতে কোমরের স্থিতিশীলতা বাড়ে, নিতম্বের পেশি সক্রিয় হয় এবং শরীরের ভঙ্গি সোজা থাকে। এমনকি শ্বাসপ্রশ্বাসও হয় আরও স্বাভাবিক ও কার্যকর।

তবে হাঁটার ধরন ঠিক না হলে শরীরে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন—পিঠ সামনের দিকে ঝুঁকে যাওয়া, হাঁটার গতি ছোট হয়ে যাওয়া বা কোমরের অস্থিরতা। এতে ধীরে ধীরে কোমর ব্যথা, হাঁটুতে চাপ বা শরীরের বিভিন্ন জায়গায় অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।

আরও পড়ুন
Web-Image

কখন ব্যায়াম করলে সবচেয়ে বেশি উপকার মেলে

বিশেষজ্ঞরা বলেন, হাঁটার সময় শরীর সোজা রাখা, পেট ও কোমর সমানভাবে রাখা, এবং পায়ের পেছন দিক দিয়ে মাটি ঠেলে এগোনো খুব গুরুত্বপূর্ণ। হাত স্বাভাবিকভাবে দোলাতে হবে এবং দৃষ্টি রাখতে হবে সামনে। এতে শরীরের ভারসাম্য ও শক্তি দুইই বাড়ে।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শ্বাসপ্রশ্বাস। হাঁটার সময় নাক দিয়ে শ্বাস নেওয়া এবং মুখ দিয়ে ধীরে ধীরে ছাড়লে শরীরের চাপ কমে, মানসিক প্রশান্তিও বাড়ে।

সঠিক হাঁটা শুধু দৈনন্দিন চলাফেরা সহজ করে না, বরং এটি শরীরকে শক্তিশালী ও স্থিতিশীল ভিত্তি তৈরি করতে সাহায্য করে। বিশেষজ্ঞদের মতে, জিমে ভারী ব্যায়ামের আগে বা পাশাপাশি যদি হাঁটার কৌশল ঠিক করা যায়, তাহলে পুরো শরীরের সক্ষমতা অনেক বেড়ে যায়।

অর্থাৎ, প্রতিদিনের এই সাধারণ হাঁটার মধ্যেই লুকিয়ে আছে অসাধারণ শক্তি—যা অনেকেই অবহেলা করেন।

সূত্র: সিএনএন


আরটিভি/জেএমএ