images

লাইফস্টাইল / স্বাস্থ্য পরামর্শ / পরামর্শ

ঘুমের মধ্যে বোবায় ধরলে কী করবেন 

শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬ , ১২:২৯ পিএম

গভীর ঘুমের মধ্যেই হঠাৎ জেগে ওঠেন অনেকে। চোখ খোলা, চারপাশ দেখা যায়, কিন্তু শরীর যেন আর নড়ে না। মনে হয় বুকের ওপর ভারী কিছু চেপে বসে আছে, শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে। এমন অভিজ্ঞতায় পড়েছেন অনেকেই। কয়েক সেকেন্ডের এই ঘটনাই অনেক সময় মনে হয় যেন দীর্ঘ সময়ের ভয়ংকর অভিজ্ঞতা। এই ঘটনাকেই সাধারণভাবে বলা হয় বোবায় ধরা।

আসলে কী এই বোবায় ধরা

চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এই অবস্থার নাম ঘুমজনিত পক্ষাঘাত। এটি ঘুম ও জেগে ওঠার মাঝামাঝি এক স্নায়বিক অবস্থা। এই সময় মস্তিষ্ক কিছুটা জেগে গেলেও শরীরের পেশি সাময়িকভাবে কাজ করে না।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমের এক পর্যায়ে মস্তিষ্ক খুব সক্রিয় থাকে এবং মানুষ স্বপ্ন দেখে। কিন্তু শরীর তখন প্রাকৃতিকভাবে স্থির থাকে। সেই অবস্থাতেই যদি হঠাৎ জেগে যাওয়া হয়, তখন শরীর ও মস্তিষ্কের মধ্যে সাময়িক অসামঞ্জস্য তৈরি হয়।

কেন হয় এই সমস্যা

গবেষণা ও বিশেষজ্ঞদের মতে এর কিছু সাধারণ কারণ রয়েছে—

  • অনিয়মিত ও অপর্যাপ্ত ঘুম
  • মানসিক চাপ ও উদ্বেগ
  • ঘুমের সময়সূচি এলোমেলো হওয়া
  • ধূমপান বা নেশাজাতীয় অভ্যাস
  • কিছু মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা
  • পারিবারিক ইতিহাস থাকলে ঝুঁকি বৃদ্ধি
আরও পড়ুন
Web-Image

স্তন ক্যান্সারের নীরব লক্ষণ, সময় থাকতেই হোন সতর্ক

কী কী লক্ষণ দেখা যায়

এই অবস্থায় আক্রান্ত ব্যক্তি সাধারণত—

  • বুকের ওপর চাপ অনুভব করেন
  • কথা বলতে বা নড়াচড়া করতে পারেন না
  • শ্বাস নিতে কষ্ট হয়
  • ভয় ও আতঙ্ক অনুভব করেন
  • অনেক সময় অদৃশ্য উপস্থিতি টের পান বলে মনে হয়
  • কিছু সেকেন্ড থেকে এক মিনিটের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়

কীভাবে কমাবেন এই সমস্যা

বিশেষজ্ঞরা কিছু অভ্যাস পরিবর্তনের পরামর্শ দেন—

  • প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় ঘুমানো ও জাগা
  • ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা গভীর ঘুম নিশ্চিত করা
  • ঘুমের আগে ভারী খাবার ও উত্তেজক পানীয় এড়িয়ে চলা
  • ঘুমের পরিবেশ শান্ত ও অন্ধকার রাখা
  • মোবাইল ও স্ক্রিন ব্যবহার কমানো
  • নিয়মিত ব্যায়াম করা

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন

যদি বারবার এই সমস্যা দেখা দেয় এবং ঘুমে বড় ধরনের ব্যাঘাত ঘটে, তবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞরা প্রয়োজন হলে কিছু পরীক্ষা ও চিকিৎসা দিয়ে থাকেন।

বোবায় ধরা ভয়ংকর মনে হলেও এটি আসলে মারাত্মক কোনো রোগ নয়। ঘুমের অনিয়ম ও মানসিক চাপই এর প্রধান কারণ। তাই নিয়মিত ঘুম ও জীবনযাত্রায় শৃঙ্খলা আনলেই অনেকাংশে এই সমস্যা কমিয়ে আনা সম্ভব।

সূত্র: বিবিসি বাংলা  


আরটিভি/জেএমএ