সোমবার, ১৮ মে ২০২৬ , ০১:৪০ পিএম
সকালে জানালার ফাঁক দিয়ে সূর্যের আলো ঘরে ঢুকলে বাতাসে ভেসে বেড়ানো অসংখ্য ধূলিকণা চোখে পড়ে। আবার কয়েক দিন টেবিল বা আসবাব পরিষ্কার না করলেও সেখানে ধুলার আস্তরণ জমে যায়। কিন্তু কখনো ভেবে দেখেছেন, দরজা-জানালা বন্ধ থাকা সত্ত্বেও ঘরে এত ধুলা আসে কোথা থেকে? বিজ্ঞানীরা বলছেন, এর বড় একটি অংশ আসে মানুষের শরীর থেকেই খসে পড়া মৃত চামড়া থেকে।
গবেষণায় দেখা গেছে, একজন মানুষের শরীর থেকে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ২০ কোটি মৃত ত্বকের কোষ ঝরে পড়ে। ত্বক সব সময় নিজেকে নতুন করে তৈরি করে। ভেতরের স্তরে নতুন কোষ জন্ম নেয় এবং ধীরে ধীরে ওপরে উঠে আসে। একসময় পুরোনো কোষগুলো মারা গিয়ে শরীর থেকে খসে পড়ে। এই ক্ষুদ্র কোষগুলো একসঙ্গে জমে তৈরি করে ঘরের ধুলার বড় অংশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘরের ধুলায় বাইরের মাটি, কাপড়ের তন্তু, পোষা প্রাণীর লোমসহ নানা উপাদান থাকলেও বদ্ধ ঘরের ধুলার অন্যতম প্রধান উৎস মানুষের মৃত চামড়া। দৈনন্দিন হাঁটাচলা, বিছানায় ঘুমানো, পোশাক বদলানো কিংবা সোফায় বসে থাকার সময় এসব মৃত কোষ চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে।
এই ধুলার সঙ্গে জড়িয়ে আছে আরও একটি অদৃশ্য জগৎ। ডাস্ট মাইট নামের অতি ক্ষুদ্র প্রাণীগুলো মানুষের খসে পড়া মৃত চামড়া খেয়েই বেঁচে থাকে। অণুবীক্ষণ যন্ত্র ছাড়া এদের দেখা যায় না। সাধারণত বিছানা, বালিশ ও কার্পেটে এদের উপস্থিতি বেশি থাকে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, এরা মূলত পরিবেশ থেকে মৃত চামড়া সরিয়ে এক ধরনের প্রাকৃতিক পরিচ্ছন্নতাকর্মীর ভূমিকা পালন করে।
তবে বিষয়টি শুধু এখানেই শেষ নয়। গবেষণায় আরও জানা গেছে, মানুষের খসে পড়া চামড়া ঘরের বাতাস পরিষ্কার রাখতেও সাহায্য করে। মানুষের ত্বক থেকে স্কোয়ালিন নামের একধরনের প্রাকৃতিক তেল নিঃসৃত হয়, যা ত্বককে আর্দ্র ও সতেজ রাখে। মৃত চামড়ার কোষে এই তেল লেগে থাকে এবং তা ঘরের বাতাসে থাকা ক্ষতিকর ওজোন গ্যাসের মাত্রা কমাতে সহায়তা করে।
আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটির তথ্যমতে, স্কোয়ালিনযুক্ত এই মৃত ত্বকের কোষ ঘরের ভেতরের ওজোন গ্যাস প্রায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে আনতে পারে। ফলে এটি ফুসফুসের জন্য ক্ষতিকর দূষণ কমিয়ে বাতাসকে তুলনামূলক নিরাপদ রাখতে ভূমিকা রাখে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, শরীর থেকে চামড়া খসে পড়া সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও প্রয়োজনীয় একটি প্রক্রিয়া। মানবদেহের এই স্বাভাবিক কার্যক্রম শুধু নতুন ত্বক তৈরিতেই সাহায্য করে না, একই সঙ্গে ঘরের পরিবেশের সঙ্গেও জড়িয়ে আছে গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সম্পর্ক।
সূত্র: আমেরিকান কেমিক্যাল সোসাইটি ও লাইভ সায়েন্স।
আরটিভি/এসকে