মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬ , ১১:৪৭ এএম
ছোটবেলায় খেলার ছলে হঠাৎ খৎনা হয়ে যাওয়ার মতো অভিজ্ঞতার গল্প অনেকেরই আছে। বাংলাদেশে মুসলিম পরিবারগুলোতে এটি একটি প্রচলিত ধর্মীয় ও সামাজিক প্রথা, যাকে স্থানীয়ভাবে অনেক সময় মুসলমানি বা খৎনা বলা হয়।
এক সময় গ্রামে গঞ্জে হাজামরা এই কাজ করলেও এখন ধীরে ধীরে হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে খৎনা করার প্রবণতা বাড়ছে।
খৎনা কী
ছেলেশিশুর যৌনাঙ্গের সামনের অতিরিক্ত চামড়া অপসারণ করাকেই খৎনা বলা হয়। এটি ধর্মীয় কারণে মুসলিম ও ইহুদি সম্প্রদায়ের মধ্যে প্রচলিত, আবার অনেক জায়গায় চিকিৎসাগত কারণেও করা হয়।
নির্দিষ্ট বয়স আছে কি
চিকিৎসকদের মতে, খৎনার জন্য নির্দিষ্ট কোনো বয়স নেই। যেকোনো বয়সেই এটি করা সম্ভব। তবে বাংলাদেশে সাধারণত শিশু একটু বড় হলে, বিশেষ করে তিন থেকে চার বছর বয়সের মধ্যে এটি করা হয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, স্কুলে যাওয়ার আগেই খৎনা করানো ভালো। কারণ তখন শিশুর মানসিক চাপ তুলনামূলক কম থাকে।
কেন ছোট বয়স ভালো
চিকিৎসকদের মতে, ছোট বয়সে শিশুদের শরীর ও মানসিক প্রস্তুতি সহজ হয়। বড় বয়সে খৎনা করলে লজ্জা, দ্বিধা বা মানসিক চাপ তৈরি হতে পারে। তবে কিছু পরিবার সামাজিক আয়োজন বা স্মরণীয় মুহূর্ত হিসেবে একটু বড় বয়সে খৎনা করাতে পছন্দ করে।
জন্মের পরপরই কোথাও করা হয়
পশ্চিমা অনেক দেশে জন্মের পরপরই খৎনা করানো হয়। তবে বাংলাদেশে সামাজিক ও মানসিক কারণে এই প্রবণতা এখনো খুব সীমিত।
স্বাস্থ্যগত উপকারিতা
চিকিৎসকদের মতে, খৎনার কিছু স্বাস্থ্যগত উপকারিতা রয়েছে। এতে সংক্রমণ, প্রদাহ এবং কিছু যৌনবাহিত রোগের ঝুঁকি কমে। তবে এটি অবশ্যই নিরাপদ ও জীবাণুমুক্ত পরিবেশে এবং চিকিৎসকের মাধ্যমে করা উচিত।
হাজাম নাকি চিকিৎসক
বিশেষজ্ঞদের মতে, খৎনা অবশ্যই প্রশিক্ষিত চিকিৎসক এবং প্রয়োজনীয় অ্যানেসথেশিয়া ব্যবহার করে করা উচিত। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে করা হলে সংক্রমণসহ নানা জটিলতার ঝুঁকি থাকে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো, খৎনা যেকোনো বয়সেই করা গেলেও ছোট বয়সে, নিরাপদ পরিবেশে এবং চিকিৎসকের মাধ্যমে করানোই সবচেয়ে ভালো ও নিরাপদ পদ্ধতি।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
আরটিভি/জেএমএ