বুধবার, ২০ মে ২০২৬ , ০১:২৬ পিএম
শপিং মলে ঢুকেই অনেকের মনে হয়, আরেকটু দেখি, এটাও কিনি, ওটাও দরকার হতে পারে। কিন্তু বের হওয়ার পর দেখা যায়, বাজেটের চেয়ে অনেক বেশি টাকা খরচ হয়ে গেছে। প্রশ্ন হলো, এমনটা কেন হয়?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর পেছনে কাজ করে অত্যন্ত পরিকল্পিত মনস্তাত্ত্বিক কৌশল। আধুনিক শপিং মলগুলো এমনভাবে তৈরি করা হয়, যাতে ক্রেতারা বেশি সময় ভেতরে থাকেন এবং অজান্তেই বেশি কেনাকাটা করেন।
ঘড়ি ও জানালা না থাকার কারণ
বড় শপিং মলে সাধারণত ঘড়ি বা বাইরের দৃশ্য দেখা যায় এমন জানালা খুব কম থাকে। কারণ, এতে মানুষ সময়ের হিসাব ভুলে যায়। বাইরে দিন না রাত, কত সময় কেটে গেল—এসব নিয়ে তখন আর ভাবনা থাকে না। ফলে ক্রেতারা দীর্ঘ সময় ধরে ঘুরতে থাকেন, আর সময় যত বাড়ে, খরচও তত বাড়তে থাকে।
আলো, ঠাণ্ডা পরিবেশ ও ধীর সুরের প্রভাব
শপিং মলের ভেতরের আলো এমনভাবে রাখা হয়, যা চোখে আরাম দেয়। ভেতরের তাপমাত্রাও থাকে স্বস্তিদায়ক। এর সঙ্গে ধীর গতির গান মানুষের হাঁটার গতি কমিয়ে দেয়। ফলে মানুষ দোকানে বেশি সময় কাটান এবং বেশি পণ্য দেখতে থাকেন।
বড় ট্রলি কেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, বড় ট্রলি মানুষের মনে এক ধরনের শূন্যতার অনুভূতি তৈরি করে। ট্রলি খালি দেখলে অনেকেই অজান্তেই আরও জিনিস তুলতে শুরু করেন। এ কারণে এখন অনেক মলে আগের চেয়ে বড় ট্রলি ব্যবহার করা হয়।
তাকের সাজেও লুকিয়ে থাকে কৌশল
দোকানের সবচেয়ে দামি বা আকর্ষণীয় পণ্যগুলো রাখা হয় চোখের সমান উচ্চতায়। আর তুলনামূলক কম দামের পণ্য থাকে ওপরে বা নিচে। ফলে বেশিরভাগ মানুষ সহজে চোখে পড়া পণ্যই কিনে ফেলেন।
কীভাবে বাঁচবেন এই ফাঁদ থেকে?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতন থাকলেই অপ্রয়োজনীয় খরচ অনেকটা কমানো সম্ভব।
মনে রাখবেন, শপিং মল শুধু কেনাকাটার জায়গা নয়, এটি মানুষের মন বুঝে তৈরি এক বিশেষ পরিকল্পনার অংশ। তাই সচেতন থাকলে আপনার পকেটও বাঁচবে, অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটাও কমবে।
আরটিভি/জেএমএ