images

লাইফস্টাইল / ধর্ম / পরামর্শ

কোরবানির পর যেসব ভুল করলেই ছড়াবে দুর্গন্ধ

শুক্রবার, ২২ মে ২০২৬ , ০৮:৫০ এএম

পবিত্র ঈদুল আজহায় কোরবানির আনন্দের পাশাপাশি সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় পরিচ্ছন্নতা। পশু জবাইয়ের পর সঠিকভাবে বর্জ্য পরিষ্কার না করলে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকা জুড়ে। এতে যেমন পরিবেশ দূষণ হয়, তেমনি বাড়ে নানা রোগের ঝুঁকিও। তাই কোরবানির পর ঘর ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা প্রত্যেক মুসলমানের দায়িত্ব।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোরবানির জন্য এমন স্থান বেছে নেওয়া উচিত, যেখান থেকে সহজেই বর্জ্য সরানো যায়। রাস্তার ওপর বা চলাচলের জায়গায় পশু জবাই না করাই ভালো। কয়েকজন মিলে নির্দিষ্ট স্থানে কোরবানি করলে পরিষ্কার করাও সহজ হয়।

পশু জবাইয়ের পর প্রথমেই রক্ত পরিষ্কার করতে হবে। রক্ত পুরোপুরি ঝরে গেলে পর্যাপ্ত পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। পরে জীবাণুনাশক বা চুন ছিটিয়ে দিলে দুর্গন্ধ অনেকটাই কমে যায়।

পশুর নাড়িভুঁড়ি, হাড় বা উচ্ছিষ্ট খোলা জায়গায় ফেলে রাখা যাবে না। এগুলো দ্রুত পচে ভয়াবহ দুর্গন্ধ ছড়ায়। তাই গর্ত করে মাটিচাপা দেওয়া বা নির্দিষ্ট ময়লার স্থানে ফেলে দেওয়াই উত্তম।

আরও পড়ুন
Web-Image

কোরবানি না দিয়ে সেই টাকা গরিবদের দান করা যাবে কী

কোরবানির চামড়াও দীর্ঘ সময় ফেলে রাখা ঠিক নয়। যত দ্রুত সম্ভব এতিমখানা, মাদরাসা বা নির্ধারিত প্রতিষ্ঠানে পৌঁছে দিতে হবে। কারণ চামড়া জমে থাকলে পরিবেশ নষ্ট হয়।

মাংস বাড়িতে নেওয়ার সময়ও সতর্ক থাকতে হবে। রক্ত যেন সিঁড়ি, উঠান বা লিফটে না পড়ে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। নইলে কয়েকদিন পর্যন্ত দুর্গন্ধ থেকে যায়।

ঘরের ভেতরে মাংস কাটার আগে মেঝেতে পাটি বা মোটা প্লাস্টিক বিছিয়ে নেওয়া ভালো। কাজ শেষে গরম পানি ও পরিষ্কারক দিয়ে পুরো জায়গা ধুয়ে ফেলতে হবে। ছুরি, বটি ও অন্যান্য সরঞ্জামও ভালোভাবে পরিষ্কার করে শুকিয়ে রাখতে হবে।

দুর্গন্ধ কমাতে ব্লিচিং পাউডার, চুন, লেবু, লবঙ্গ বা কমলার খোসা ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে ঘরের ভেতরের দুর্গন্ধ অনেকটাই দূর হয়।

পরিচ্ছন্ন কোরবানি শুধু পরিবেশ রক্ষা করে না, বরং ইসলামের সৌন্দর্যও তুলে ধরে। তাই কোরবানির আনন্দের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতার দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সচেতন মহল।


আরটিভি/জেএমএ