রোববার, ২৪ মে ২০২৬ , ১০:২৯ এএম
তীব্র গরমে ঘর, অফিস বা গাড়ির ভেতর এসির ঠান্ডা হাওয়ায় স্বস্তি মিললেও বাইরে বের হলেই পড়তে হচ্ছে প্রচণ্ড গরমের ধাক্কায়। বিশেষ করে অনেকেই এসিতে দীর্ঘক্ষণ থাকার পর সরাসরি রোদের মধ্যে বেরিয়ে যাচ্ছেন, যা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা।
বর্তমানে অনেকের মধ্যেই গলা ব্যথা, শুকনো কাশি, মাথাব্যথা, দুর্বলতা, ক্লান্তি এবং মাথা ঘোরার মতো সমস্যা দেখা যাচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, এসব উপসর্গকে অনেকেই সাধারণ ভাইরাল বা সামার কোল্ড ভেবে ভুল করেন। কিন্তু এর পেছনে বড় একটি কারণ হলো, এসির কারণে শরীরের তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার আকস্মিক পরিবর্তন।
এসি রুম থেকে সরাসরি রোদের মধ্যে গেলে কেন সমস্যা হয়
বিশেষজ্ঞদের মতে, এয়ার কন্ডিশনার বা এসি শুধু ঘরের তাপমাত্রাই কমায় না, বাতাসের আর্দ্রতাও কমিয়ে দেয়। ফলে ঘরের ভেতরের বাতাস শুষ্ক হয়ে যায়, যা গলা ও শ্বাসতন্ত্রকে প্রভাবিত করে।
এরপর যখন কেউ হঠাৎ এই ঠান্ডা পরিবেশ থেকে বেরিয়ে প্রচণ্ড গরমে আসে, তখন শরীরকে দ্রুত তাপমাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নিতে হয়। এই আকস্মিক পরিবর্তন শরীরের জন্য এক ধরনের শকের মতো কাজ করে।
বিশেষ করে যারা সারাদিন অফিসে এসির মধ্যে থাকেন এবং কাজের প্রয়োজনে বারবার বাইরে বের হন, তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও বেশি দেখা দেয়।
কী কী সমস্যা হতে পারে
হঠাৎ তাপমাত্রার পরিবর্তনের কারণে শরীরে ডিহাইড্রেশন, মাথাব্যথা, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা এবং হিট স্ট্রেসের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। যাদের হাঁপানি, অ্যালার্জি বা শ্বাসকষ্ট রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে সমস্যা আরও জটিল হতে পারে।
কীভাবে এড়াবেন এই ঝুঁকি
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, এসি রুম থেকে সরাসরি রোদে না গিয়ে কয়েক মিনিট স্বাভাবিক তাপমাত্রায় শরীরকে মানিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
দিনভর পর্যাপ্ত পানি পান করা খুব জরুরি। কারণ এসির মধ্যে থাকলে শরীর ধীরে ধীরে পানিশূন্য হয়ে যেতে পারে। নারকেল পানি, লেবুর শরবত, ঘোল ও ফলের রস শরীরের ইলেকট্রোলাইট ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে।
বাইরে বের হওয়ার সময় হালকা ও ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরা উচিত। ছাতা, টুপি বা স্কার্ফ ব্যবহার করলে রোদের প্রভাব অনেকটা কমে।
এছাড়া গরম থেকে ফিরে সঙ্গে সঙ্গে খুব ঠান্ডা পানি বা পানীয় না খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ এতে গলা ও শরীরে অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে।
সঠিক সতর্কতা ও ছোট কিছু অভ্যাস বদলেই এসি ও গরমের এই তাপমাত্রার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আরটিভি/জেএমএ