শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬ , ০৮:২০ এএম
বাংলাদেশে বাঁশ শব্দটি অনেক সময় মজার ছলে বা নেতিবাচক অর্থে ব্যবহার করা হয়। কিন্তু এই বাঁশ যে পরিবেশ, অর্থনীতি ও মানুষের জীবনে কত বড় অবদান রাখছে, তা অনেকেই জানেন না। প্রকৃতপক্ষে বাঁশ শুধু একটি উদ্ভিদ নয়, এটি প্রকৃতির নীরব রক্ষক।
অনেকের ধারণা বাঁশ একটি গাছ। তবে বাস্তবে বাঁশ হলো এক ধরনের বহু বর্ষজীবী ঘাস। পৃথিবীতে প্রায় ৩০০ প্রজাতির বাঁশ রয়েছে। এর মধ্যে বাংলাদেশে পাওয়া যায় ৩০টিরও বেশি প্রজাতি। বাঁশের বৈচিত্র্যের দিক থেকে বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর মধ্যেও রয়েছে বাংলাদেশ।
পরিবেশ রক্ষায় বাঁশের ভূমিকা অসাধারণ। এটি অন্যান্য অনেক উদ্ভিদের তুলনায় বেশি অক্সিজেন উৎপাদন করে এবং বাতাস থেকে বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে। ফলে পরিবেশ থাকে আরও নির্মল ও স্বাস্থ্যকর। শুধু তাই নয়, বাঁশঝাড় আশপাশের তাপমাত্রা কয়েক ডিগ্রি পর্যন্ত কমিয়ে রাখতে পারে। এ কারণে একে অনেকেই প্রকৃতির শীতল ছায়া বলে থাকেন।
পাহাড়ধস, নদীভাঙন ও মাটিক্ষয় রোধেও বাঁশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এর বিস্তৃত শেকড় মাটিকে শক্তভাবে আঁকড়ে ধরে রাখে। ফলে ভূমি ধসে পড়ার ঝুঁকি কমে যায়। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রাণীর নিরাপদ আশ্রয়স্থল হিসেবেও কাজ করে বাঁশঝাড়।
খাদ্য হিসেবেও বাঁশের কদর রয়েছে। কচি বাঁশ বা বাঁশের কোড়ল দিয়ে সুস্বাদু তরকারি, স্যুপ ও নানা খাবার তৈরি করা হয়। এতে রয়েছে খাদ্যআঁশ, প্রোটিন, পটাশিয়াম, লৌহসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান। যা হজমশক্তি বাড়াতে, রোগ প্রতিরোধে এবং শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে।
গ্রামবাংলার ঘরবাড়ি নির্মাণে বাঁশের ব্যবহার বহু পুরোনো। বাড়ির বেড়া, ছাউনি, সেতু, মাচা থেকে শুরু করে নানা নির্মাণকাজে বাঁশের জুড়ি নেই। কম খরচে টেকসই হওয়ায় এখনও এটি অন্যতম জনপ্রিয় নির্মাণসামগ্রী।
এছাড়া আসবাবপত্র, ঝুড়ি, কুলো, ডালা, বাদ্যযন্ত্র, কাগজ, পোশাকের তন্তু, এমনকি প্রসাধনী তৈরিতেও ব্যবহার হচ্ছে বাঁশ। পরিবেশবান্ধব হওয়ায় বিশ্বজুড়ে বাঁশের তৈরি পণ্যের চাহিদাও বাড়ছে।
সবচেয়ে বড় কথা, বাঁশ চাষে খুব বেশি যত্নের প্রয়োজন হয় না। দ্রুত বেড়ে ওঠে এবং অল্প সময়েই অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক হয়ে ওঠে। তাই অনেকেই এখন বাণিজ্যিকভাবে বাঁশ চাষের দিকে ঝুঁকছেন।
যে বাঁশকে নিয়ে আমরা প্রায়ই ঠাট্টা করি, সেই বাঁশই আজ পরিবেশ রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং মানুষের জীবনযাত্রার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। তাই বাঁশকে শুধু উপমা নয়, প্রকৃতির এক মূল্যবান সম্পদ হিসেবেই দেখা উচিত।
সূত্র: বিবিসি
আরটিভি/জেএমএ