শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬ , ০৮:৪৮ এএম
জীবন রক্ষাকারী ওষুধগুলোর মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক অন্যতম। ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে প্রয়োজন ছাড়া বা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অ্যান্টিবায়োটিক খেলে শরীরে নানা ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে। এমনকি সঠিকভাবে খেলেও কিছু সাময়িক সমস্যা দেখা দেওয়া অস্বাভাবিক নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অ্যান্টিবায়োটিক শুধু ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়াই নয়, শরীরের উপকারী ব্যাকটেরিয়ারও ক্ষতি করে। ফলে শরীরের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে।
সবচেয়ে বেশি দেখা যায় পেটের সমস্যা। অনেকের ডায়রিয়া, বদহজম, বমিভাব, পেটব্যথা, ক্ষুধামন্দা কিংবা মাথা ঘোরার মতো উপসর্গ দেখা দেয়। কারণ, অন্ত্রে থাকা উপকারী জীবাণুগুলোও অ্যান্টিবায়োটিকের প্রভাবে কমে যায়।
এ অবস্থায় দইসহ উপকারী জীবাণুসমৃদ্ধ খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেন পুষ্টিবিদরা। পাশাপাশি কাঁচা কলা, ডাল, ওটস, পেঁয়াজ, রসুন ও বিভিন্ন ফল অন্ত্রের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সহায়তা করতে পারে।
নারীদের ক্ষেত্রে আরেকটি সাধারণ সমস্যা হলো ছত্রাকজনিত সংক্রমণ। অ্যান্টিবায়োটিকের কারণে শরীরের প্রতিরক্ষামূলক জীবাণু কমে গেলে চুলকানি, জ্বালাপোড়া, অস্বাভাবিক স্রাব ও অস্বস্তি দেখা দিতে পারে। এমন লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
কিছু অ্যান্টিবায়োটিক ত্বককে সূর্যের আলোতে বেশি সংবেদনশীল করে তোলে। ফলে অল্প সময় রোদে থাকলেও ত্বক পুড়ে যাওয়া, লালচে হওয়া বা চুলকানির মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই অ্যান্টিবায়োটিক সেবনের সময় দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকা এড়িয়ে চলাই ভালো।
কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। কারণ শরীর থেকে অ্যান্টিবায়োটিকের অবশিষ্টাংশ বের করে দেওয়ার কাজ করে কিডনি। তাই আগে থেকেই কিডনির সমস্যা থাকলে অবশ্যই চিকিৎসককে জানাতে হবে।
এ ছাড়া কিছু মানুষের ক্ষেত্রে অ্যালার্জির প্রতিক্রিয়াও দেখা দিতে পারে। শরীরে ফুসকুড়ি, চুলকানি, শ্বাসকষ্ট, ঠোঁট বা মুখ ফুলে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অ্যান্টিবায়োটিক কখনোই নিজের ইচ্ছামতো খাওয়া উচিত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পুরো মাত্রা সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি পান, স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ এবং বিশ্রাম শরীরকে দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে সাহায্য করে।
অ্যান্টিবায়োটিক জীবন বাঁচাতে পারে, তবে সচেতন না হলে এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও ভোগাতে পারে দীর্ঘদিন। তাই ওষুধটি ব্যবহারে প্রয়োজন সতর্কতা ও চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা।
সূত্র: বিবিসি
আরটিভি/জেএমএ