রোববার, ০৭ জুন ২০২৬ , ০২:৩৪ পিএম
কাঁঠাল বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় ফল, যা জাতীয় ফল হিসেবেও পরিচিত। শুধু কাঁঠালের কোয়া নয়, এর বিচিও পুষ্টিগুণে ভরপুর। অনেকেই কাঁঠালের বিচি ফেলে দেন। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বিচিতে রয়েছে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় নানা অবাক করা পুষ্টি উপাদান।
বিভিন্ন শক্তির উৎস
কাঁঠালের বিচি প্রোটিন, খাদ্যআঁশ, ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভালো উৎস। নিয়মিত ও পরিমিত পরিমাণে খেলে এটি শরীরের নানা উপকারে আসতে পারে।
পুষ্টিবিদদের মতে, কাঁঠালের বিচিতে থাকা উদ্ভিজ্জ প্রোটিন শরীরের কোষ গঠন, পেশির বৃদ্ধি এবং ক্ষয়পূরণে সাহায্য করে। বিশেষ করে নিরামিষভোজীদের জন্য এটি হতে পারে প্রোটিনের একটি ভালো উৎস।
কোষ্ঠকাঠিন্য ও অন্ত্রের স্বাস্থ্য রক্ষা
এছাড়া এতে থাকা খাদ্যআঁশ হজমশক্তি উন্নত করতে সাহায্য করে। কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করা এবং অন্ত্রের ( হলো পরিপাকতন্ত্র বা পৌষ্টিকতন্ত্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি মূলত পাকস্থলী থেকে শুরু করে পায়ু পর্যন্ত বিস্তৃত একটি লম্বা ও প্যাঁচানো নল।) স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও ভূমিকা রাখে এই বিচি।
রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়
কাঁঠালের বিচিতে থাকা বিভিন্ন ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। ফলে বিভিন্ন সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার শক্তি পায় শরীর।
হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমায়
হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী কাঁঠালের বিচি। এতে থাকা পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। পাশাপাশি খাদ্যআঁশ খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সহায়তা করতে পারে, যা হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখে।
হিমোগ্লোবিন বাড়ায়
বিশেষজ্ঞরা জানান, কাঁঠালের বিচিতে কিছু পরিমাণ আয়রন রয়েছে, যা শরীরে হিমোগ্লোবিন তৈরিতে সহায়তা করে। ফলে রক্তশূন্যতার ঝুঁকি কমাতেও এটি উপকারী হতে পারে।
ত্বকের যত্ন নেয়
ত্বকের যত্নেও রয়েছে এর ভূমিকা। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বককে ক্ষতিকর উপাদানের প্রভাব থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে এবং ত্বককে দীর্ঘদিন সতেজ রাখতে সহায়তা করে।
হাড় মজবুত রাখে
এ ছাড়া কাঁঠালের বিচিতে থাকা শর্করা শরীরকে প্রয়োজনীয় শক্তি জোগায়। ম্যাগনেসিয়ামসহ বিভিন্ন খনিজ উপাদান হাড় মজবুত রাখতেও ভূমিকা রাখে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা
ওজন নিয়ন্ত্রণেও সহায়ক হতে পারে এই বিচি। কারণ এতে থাকা খাদ্যআঁশ দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে।
সতর্কতা
তবে কাঁঠালের বিচি খাওয়ার ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতাও রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিচি সবসময় ভালোভাবে সেদ্ধ বা রান্না করে খাওয়া উচিত। অতিরিক্ত খেলে কারও কারও গ্যাস বা পেটের অস্বস্তি হতে পারে। যাদের বিশেষ স্বাস্থ্যগত সমস্যা রয়েছে, তারা চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে খাদ্যতালিকায় এটি যোগ করতে পারেন।
পুষ্টিগুণে ভরপুর কাঁঠালের বিচি তাই অবহেলা না করে মৌসুমে খাদ্যতালিকায় রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
আরটিভি/জেএমএ