সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬ , ০৮:২৫ এএম
রাত গভীর। বিছানায় শুয়ে এপাশ-ওপাশ করছেন, কিন্তু ঘুম আসছে না। আবার অনেকের মধ্যরাতে ঘুম ভেঙে গেলে আর চোখে ঘুম ফেরে না। অনিদ্রা এখন অনেকেরই পরিচিত সমস্যা। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুম না এলে কিছু অভ্যাস পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করে তুলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিদ্রার পেছনে দুশ্চিন্তা, উদ্বেগ, বয়সজনিত পরিবর্তন, শারীরিক অসুস্থতা, রাতের পালার কাজ কিংবা হরমোনজনিত নানা কারণ কাজ করতে পারে। তবে ঘুম না এলে কী করা উচিত এবং কোন কাজগুলো এড়িয়ে চলা জরুরি, সে বিষয়েও রয়েছে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ।
ঘুম না এলে যে ভুলগুলো করবেন না
ঘুম না আসলেও বিছানায় দীর্ঘ সময় জেগে পড়ে থাকা ঠিক নয়। এতে মস্তিষ্কের কাছে বিছানা আর ঘুমের জায়গা হিসেবে কাজ করে না। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, আধাঘণ্টার মতো ঘুম না এলে বিছানা ছেড়ে উঠে অন্য কোনো শান্ত কাজ করতে পারেন। পরে আবার শুয়ে পড়ুন।
বিছানায় বসে কাজ করা, মোবাইল ব্যবহার করা বা অন্য কাজে সময় কাটানোর অভ্যাসও অনিদ্রা বাড়াতে পারে। এতে মস্তিষ্ক বিভ্রান্ত হয় এবং ঘুমের স্বাভাবিক অভ্যাস নষ্ট হয়ে যায়।
দুশ্চিন্তাই সবচেয়ে বড় শত্রু
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুম না হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা। অনেকেই ভাবতে থাকেন, এখনই ঘুমাতে না পারলে কাল সমস্যা হবে। এই চিন্তাই ঘুমকে আরও দূরে ঠেলে দেয়।
তাদের মতে, জোর করে ঘুমানোর চেষ্টা না করে ঘুমকে স্বাভাবিকভাবে আসতে দেওয়া উচিত। কারণ ঘুম এমন একটি বিষয়, যা চাপ দিয়ে আনা যায় না।
অনিদ্রার লক্ষণ কী?
শুধু ঘুম না আসাই নয়, মধ্যরাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া, ভোরের আগে জেগে ওঠা এবং পরে আর ঘুমাতে না পারাও অনিদ্রার লক্ষণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সপ্তাহে অন্তত তিন রাত ঘুমের সমস্যা হলে এবং এই অবস্থা তিন মাসের বেশি স্থায়ী হয়ে দিনের কাজকর্মে প্রভাব ফেললে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
ঘুমের জন্য নিয়ম মেনে চলা জরুরি
ঘুমের জন্য প্রতিদিন একই সময়ে শোয়া এবং একই সময়ে জেগে ওঠার অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। নির্দিষ্ট জায়গায় ঘুমানোও গুরুত্বপূর্ণ। এতে মস্তিষ্ক বুঝতে পারে, ওই স্থানটি বিশ্রামের জন্য।
সোফা বা চেয়ারে ঘুমিয়ে পড়া কিংবা বিছানায় বসে দীর্ঘ সময় কাজ করাও এড়িয়ে চলতে হবে।
ঘুমের ওষুধ কি সমাধান?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমের ওষুধ দীর্ঘমেয়াদি সমাধান নয়। বরং চিন্তা ও আচরণ পরিবর্তনের মাধ্যমে অনিদ্রা কমানোর পদ্ধতি অনেক বেশি কার্যকর। এই ধরনের মানসিক চিকিৎসা অনেক মানুষের ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফল দেয়।
আরও যেসব বিষয় ঘুম নষ্ট করে
অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, মানসিক চাপ, দীর্ঘদিনের ব্যথা, রজোনিবৃত্তিকালীন পরিবর্তন (নারীদের মাসিক বা ঋতুস্রাব স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া), মদ্যপান এবং রাতের পালার কাজ ঘুমের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ ঘুমের জন্য নিয়মিত জীবনযাপন, মানসিক চাপ কমানো এবং ঘুমের পরিবেশ ঠিক রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
ঘুম না এলে আতঙ্কিত না হয়ে ধৈর্য ধরুন। কারণ ঘুমকে জোর করে আনা যায় না, বরং সঠিক অভ্যাসই ফিরিয়ে আনতে পারে শান্তির ঘুম।
সূত্র: বিবিসি
আরটিভি/জেএমএ