সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬ , ১০:৪৫ এএম
মন খারাপের দিনে হঠাৎ কোনো দুঃখের গান বেজে উঠলে অনেকেরই চোখে পানি চলে আসে। তখন মনে হয়, গানটি যেন একেবারে নিজের জীবনের কথাই বলছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়। এর পেছনে কাজ করে মস্তিষ্ক ও আবেগের গভীর সম্পর্ক।
আবেগ আর সুরের অদৃশ্য যোগ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের আবেগ ও মস্তিষ্কের সঙ্গে সঙ্গীতের এক গভীর যোগাযোগ রয়েছে। এই কারণেই গান আমাদের ভেতরের লুকানো অনুভূতিকে হঠাৎ করে জাগিয়ে তুলতে পারে। মন খারাপ থাকলে সেই প্রভাব আরও বেড়ে যায়।
মানসিকভাবে দুর্বল বা বিপর্যস্ত অবস্থায় মানুষ নিজের আবেগকে স্বাভাবিকভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। সেই সময় কোনো দুঃখের গান কানে এলে আবেগ আরও তীব্র হয়ে ওঠে, অনেক সময় তা চোখের পানি হয়ে কান্নায় বেরিয়ে আসে।
স্মৃতির দরজা খুলে দেয় গান
গান শুধু বিনোদন নয়, এটি স্মৃতি ও অনুভূতির সঙ্গেও যুক্ত। কোনো পরিচিত সুর বা লিরিকস পুরোনো স্মৃতি, হারানো সম্পর্ক বা কষ্টের মুহূর্তকে আবারও মনে করিয়ে দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঙ্গীত মস্তিষ্কের স্মৃতি ও আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী অংশকে সক্রিয় করে। ফলে মন খারাপের সময় গান শোনার ফলে পুরোনো দুঃখ আরও তীব্রভাবে অনুভূত হতে পারে।
কান্না কি খারাপ?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই আবেগের প্রকাশ সব সময় ক্ষতিকর নয়। অনেকের ক্ষেত্রে দুঃখের গান শোনা এক ধরনের মানসিক মুক্তি হিসেবে কাজ করে। এতে জমে থাকা আবেগ বেরিয়ে আসে এবং মন কিছুটা হালকা হয়।
তবে সতর্ক থাকার কথাও জানিয়েছেন তারা। যদি কোনো গান বারবার পুরোনো কষ্টে আটকে রাখে এবং হতাশা বাড়িয়ে দেয়। তবে তা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
মন খারাপের গান অনেক সময় আমাদের ভেতরের আবেগকে নাড়া দেয়, কখনো চোখে পানি আনে, আবার কখনো মনকে হালকা করতেও সাহায্য করে।
আরটিভি/জেএমএ