images

লাইফস্টাইল

বাংলাদেশ কী শক্তিশালী ভূমিকম্পের দিকে এগোচ্ছে? হলে কতটা ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে? 

সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬ , ০৩:৩০ পিএম

৭ দশমিক ৮ মাত্রায় ফিলিপাইন ও আশপাশের অঞ্চলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে সোমবার (৮ জুন) প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের ঘটনায় আবারও আলোচনায় এসেছে ভূমিকম্প ঝুঁকি। একইসঙ্গে বাংলাদেশেও বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ভূতত্ত্ববিদ ও নগর পরিকল্পনাবিদরা।

রোববার (৭ জুন) বাংলাদেশেও রাত ১১টা ৩৬ মিনিটে এই ভূমিকম্প অনুভূত হয়, যার রিখটার স্কেলে তীব্রতা ছিল ৫.৭।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ এমন এক ভৌগোলিক অঞ্চলে অবস্থিত যেখানে যেকোনো সময় ৮ মাত্রার বেশি ভূমিকম্প আঘাত হানতে পারে। ডাউকি ফল্টসহ (প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ একটি ভূতাত্ত্বিক চ্যুতি বা ফাটল রেখা) দেশের বিভিন্ন ভূ-ফাটলে বিপুল পরিমাণ শক্তি জমা হয়ে আছে, যা বড় ধরনের ভূমিকম্পের ঝুঁকি তৈরি করছে।

আরও পড়ুন
Web-Image

কিছু মানুষ ভূমিকম্প টের পান না কেন 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থ অবজারভেটরির সাবেক পরিচালক ও ভূতত্ত্ববিদ অধ্যাপক সৈয়দ হুমায়ুন আখতার বিবিসিকে বলেন, সিলেট থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চলের নিচে বিপুল শক্তি সঞ্চিত আছে। সেখানে ৮ মাত্রার বেশি ভূমিকম্প হলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ভয়াবহ হতে পারে।

তিনি জানান, তাদের গবেষণা অনুযায়ী ভূমিকম্পের সময় ঢাকার মাত্র এক শতাংশ ভবন ধসে পড়লেও প্রায় ৬ হাজার ভবন ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। এতে অন্তত ৩ লাখ মানুষ সরাসরি হতাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

২০০৯ সালে জাইকা ও সিডিএমপির যৌথ জরিপেও বলা হয়েছিল, ঢাকায় ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হলে ৭২ হাজার ভবন ধসে পড়তে পারে এবং ১ লাখের বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, বিল্ডিং কোড না মানা, দুর্বল নির্মাণ কাঠামো এবং প্রস্তুতির অভাবই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ঝুঁকি।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মেহেদি আহমেদ আনসারী বিবিসিকে বলেন, ঢাকার মাত্র ৫ থেকে ৭ শতাংশ ভবন ভূমিকম্প সহনশীল। বাকি ভবনগুলো ঝুঁকিপূর্ণ। আগে ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করে সেগুলো শক্তিশালী করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ভবনগুলো ভূমিকম্প সহনশীল করা গেলে প্রাণহানি অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।

অন্যদিকে ভূতত্ত্ববিদরা মনে করেন, শুধু ভবন শক্তিশালী করাই নয়, জরুরি প্রস্তুতি, প্রশিক্ষণ এবং মহড়াও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিয়মিত স্বেচ্ছাসেবক প্রশিক্ষণ, উদ্ধার মহড়া এবং জনসচেতনতা বাড়ানো গেলে দুর্যোগ মোকাবিলা সহজ হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, স্মার্ট সতর্কবার্তা ব্যবস্থা, স্কুল-কলেজে ভূমিকম্প বিষয়ক সচেতনতা এবং স্থানীয় পর্যায়ে প্রস্তুতি কার্যক্রম বাড়ানো গেলে বড় ধরনের মানবিক বিপর্যয় অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।

ভূমিকম্প ঠেকানো সম্ভব না হলেও সঠিক প্রস্তুতিই হতে পারে প্রাণ বাঁচানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায়—এমনটাই মত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের।

তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা 


আরটিভি/জেএমএ