শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬ , ০৩:৫২ পিএম
বর্তমান সময়ে পারিবারিক বন্ধন আগের তুলনায় কিছুটা হলেও দুর্বল হয়ে পড়ছে—এমন মত বিশেষজ্ঞদের। ব্যস্ত জীবন, প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ব্যক্তিগত সময়ের চাপের কারণে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে দূরত্ব বাড়ছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শক্ত পারিবারিক সম্পর্ক গড়তে বড় কোনো আয়োজন নয়, বরং দৈনন্দিন ছোট ছোট অভ্যাসই সবচেয়ে বেশি কার্যকর ভূমিকা রাখে।
পরিবারকে সুখী ও একত্রিত রাখতে যে পাঁচটি অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ, তা নিচে তুলে ধরা হলো—
প্রতিদিন একবেলা একসঙ্গে খাওয়ার অভ্যাস
পরিবারের সবাই মিলে প্রতিদিন অন্তত একবেলা একসঙ্গে খাবার খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। সেটা সকাল, দুপুর বা রাত—যে কোনো সময় হতে পারে।
এই সময় মোবাইল ও অন্যান্য যন্ত্র দূরে রেখে একে অপরের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ তৈরি করতে হবে। এতে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও গভীর হয় এবং সুন্দর স্মৃতি তৈরি হয়।
সপ্তাহে একদিন একসঙ্গে সময় কাটানো
সপ্তাহে অন্তত একদিন পরিবারকে সময় দেওয়ার জন্য আলাদা দিন নির্ধারণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এই সময় একসঙ্গে খেলা, সিনেমা দেখা বা ঘুরতে যাওয়ার মতো কাজ করা যেতে পারে। সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করলে পারিবারিক আনন্দ ও সম্পর্ক আরও দৃঢ় হয়।
প্রশংসার অভ্যাস গড়ে তোলা
পরিবারের সদস্যদের ভালো কাজ ও গুণের প্রশংসা করার অভ্যাস গড়ে তুলতে বলা হয়েছে। খাবার টেবিলে বা ঘুমানোর আগে একে ওপরকে ধন্যবাদ ও প্রশংসা জানালে সম্পর্কের মধ্যে ইতিবাচকতা বাড়ে এবং পারস্পরিক সম্মান তৈরি হয়।
ব্যক্তিগত সময়কে গুরুত্ব দেওয়া
পরিবারের প্রতিটি সদস্যের ব্যক্তিগত সময় থাকা জরুরি। বই পড়া, শখের কাজ বা একান্তে কিছু সময় কাটানোর সুযোগ দিলে মানসিক শান্তি বাড়ে। পাশাপাশি পারিবারিক সময়ও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ রাখতে হবে।
পরিবর্তন ও সমস্যাকে একসঙ্গে মোকাবিলা করা
পরিবারে কোনো সমস্যা বা পরিবর্তন এলে তা এড়িয়ে না গিয়ে সবাই মিলে সমাধানের চেষ্টা করতে হবে।
নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খুঁজলে পারস্পরিক বোঝাপড়া ও দলগত মনোভাব তৈরি হয়, যা সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পারিবারিক বন্ধন শক্তিশালী করতে বড় কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন নেই। প্রতিদিনের ছোট ছোট অভ্যাসই একটি সুখী ও সুস্থ পরিবার গড়ে তুলতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে।
আরটিভি/জেএমএ