বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬ , ০৩:০৩ পিএম
গরমের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেক পরিবারেই দিন-রাত চলছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রক যন্ত্র। বড়দের পাশাপাশি শিশুরাও দীর্ঘ সময় কাটাচ্ছে ঠান্ডা ঘরে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়ম না মেনে দীর্ঘক্ষণ শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে থাকলে শিশুদের নানা শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
বিশেষ করে বাইরে খেলাধুলা করে ঘামে ভেজা অবস্থায় শিশুকে হঠাৎ ঠান্ডা ঘরে নিয়ে যাওয়া ঠিক নয়। আবার বারবার ঠান্ডা ঘর থেকে গরম পরিবেশে যাওয়া-আসাও শিশুর শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাপমাত্রার এমন ঘন ঘন পরিবর্তনে শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকি বাড়ে।
শিশুকে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে রাখলে কী কী সমস্যা হতে পারে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় ঠান্ডা ঘরে থাকলে শিশুদের মধ্যে প্রধানত দুটি সমস্যা বেশি দেখা যায়।
নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া
অনেক শিশুর নাক শুকিয়ে যায় বা বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এমন সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে।
ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যাওয়া
ঠান্ডা বাতাসের কারণে শিশুর ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে যায়। ফলে ত্বক শুষ্ক ও খসখসে হয়ে যেতে পারে। এ কারণে নিয়মিত ত্বকে ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা জরুরি।
শিশুর জন্য কত তাপমাত্রা নিরাপদ?
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, শীতাতপ নিয়ন্ত্রক যন্ত্রের তাপমাত্রা ২৬ থেকে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখা তুলনামূলক নিরাপদ। অতিরিক্ত ঠান্ডা পরিবেশ শিশুদের জন্য অস্বস্তি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
যেসব বিষয় অবশ্যই খেয়াল রাখবেন:
১. নিয়মিত পরিষ্কার করুন যন্ত্রের ছাঁকনি
বাড়িতে শিশু থাকলে প্রতি সপ্তাহে ছাঁকনি পরিষ্কার করা এবং সময়মতো যন্ত্রের রক্ষণাবেক্ষণ করা জরুরি। ছাঁকনি নোংরা হলে ঘরের বাতাসও দূষিত হতে পারে।
২. বাতাস সরাসরি শিশুর গায়ে লাগবে না
ঘুমের সময় ঠান্ডা বাতাস যেন সরাসরি শিশুর শরীরে না লাগে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
৩. খুব ছোট শিশুদের বাড়তি সুরক্ষা দিন
ছয় মাসের কম বয়সী শিশু ঘুমালে তাকে ছোট মশারির মধ্যে রাখা যেতে পারে। প্রয়োজনে ওপর থেকে পাতলা সুতির কাপড় ব্যবহার করা যেতে পারে।
৪. ঘাম নিয়ে সরাসরি ঠান্ডা ঘরে নয়
বাইরে থেকে এসে শিশুর শরীর স্বাভাবিক তাপমাত্রায় আসার পর তাকে ঠান্ডা ঘরে নেওয়া ভালো।
সচেতন থাকুন
গরমে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘর স্বস্তি দিলেও শিশুদের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মেনে চলা জরুরি। সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখা, পরিষ্কার বাতাস নিশ্চিত করা এবং শিশুর শরীরের পরিবর্তনের দিকে নজর রাখলেই অনেক সমস্যাই এড়ানো সম্ভব। শিশুর আরাম যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি তার সুস্থতাও।
আরটিভি/জেএমএ