বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬ , ০৩:১৫ পিএম
ডিম প্রোটিনের অন্যতম ভালো উৎস। তাই প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় অনেকেরই থাকে ডিম। তবে গরমের সময়ে অন্য খাবারের মতো ডিমও দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, বাইরে থেকে দেখে বোঝা কঠিন—ডিমটি টাটকা নাকি কয়েক দিনের পুরোনো।
অনেক সময় বাজার থেকে ডিম কিনে বাড়ি ফেরার পর দেখা যায়, ডিম খাওয়ার উপযোগী নেই। এতে একদিকে যেমন খাবার নষ্ট হয়, অন্যদিকে পয়সাও অপচয় হয়। দোকানে ডিম ভেঙে পরীক্ষা করাও সম্ভব নয়। তাই কেনার আগে কিছু সহজ উপায়ে বোঝা যেতে পারে ডিমের সতেজতা।
পানিতে ডুবিয়ে বুঝুন ডিম টাটকা কি না
ডিম ভালো আছে কি না বোঝার সবচেয়ে সহজ উপায় হলো পানির পরীক্ষা। এজন্য একটি পাত্রে ঠান্ডা পানি নিয়ে ডিমটি পুরোপুরি ডুবিয়ে দিন।
যদি ডিম পানির নিচে গিয়ে একেবারে শুয়ে থাকে, তাহলে সেটি টাটকা ডিম।
আর যদি ডিম পানির নিচে গিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে থাকে বা কিছুটা কাত হয়ে থাকে, তাহলে বুঝতে হবে সেটি কয়েক দিনের পুরোনো। তবে সাধারণত এমন ডিম খাওয়া নিরাপদ, শুধু বেশি দিন সংরক্ষণ করা ঠিক নয়।
কিন্তু ডিম যদি পানির ওপর ভেসে ওঠে, তাহলে সেটি ব্যবহার না করাই ভালো। কারণ পুরোনো ডিমে নষ্ট হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে।
কেন পানিতে ভেসে ওঠে পুরোনো ডিম?
সময় যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিমের খোসার ছোট ছোট ছিদ্র দিয়ে বাতাস ভেতরে ঢুকতে থাকে। এতে ডিমের ভেতরের বাতাসের জায়গা ধীরে ধীরে বড় হয়। ফলে ডিম হালকা হয়ে পানিতে ভেসে ওঠে।
অন্যদিকে টাটকা ডিমে বাতাসের পরিমাণ কম থাকে, তাই সেটি পানিতে ডুবে যায়।
ডিম ভাঙার পরও বোঝা যায় সতেজতা
ডিম ভাঙার পরও এর মান বোঝার উপায় আছে। টাটকা ডিমের সাদা অংশ ঘন ও আঠালো হয় এবং কুসুম থাকে গোলাকার ও উঁচু।
পুরোনো ডিমের সাদা অংশ পাতলা ও পানির মতো হয়ে যায়। কুসুমও চ্যাপ্টা দেখাতে পারে।
দুর্গন্ধ পেলেই সতর্ক হোন
ডিম নষ্ট হওয়ার সবচেয়ে সহজ লক্ষণ হলো তীব্র দুর্গন্ধ। ডিম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গে যদি পচা বা সালফারের মতো গন্ধ বের হয়, তাহলে সেটি খাওয়া উচিত নয়।
ডিম ভালো রাখতে যা করবেন
ডিম সবসময় ফ্রিজে সংরক্ষণ করা ভালো। সম্ভব হলে ডিমের মূল বাক্সেই রাখুন। এতে ডিমের গুণগত মান ভালো থাকে এবং তুলনামূলক বেশি দিন সংরক্ষণ করা যায়।
বাজারে ডিম কেনার সময় শুধু দাম নয়, ডিমের সতেজতাও গুরুত্বপূর্ণ। সহজ কয়েকটি কৌশল জানলে সহজেই বোঝা যাবে কোন ডিম ভালো আর কোনটি পুরোনো।
আরটিভি/জেএমএ