বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬ , ০৯:২৮ এএম
রান্নাঘরের নিত্যসঙ্গী এখন এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডার। শহর থেকে শুরু করে গ্রামাঞ্চল—সব জায়গাতেই রান্নার কাজে বাড়ছে এর ব্যবহার। তবে অসতর্কতা, নিম্নমানের যন্ত্রাংশ এবং সঠিক নিয়ম না মানার কারণে এই নিরাপদ জ্বালানিই কখনো কখনো ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানসম্মত গ্যাস সিলিন্ডার সাধারণত নিরাপদ। তবে গ্যাস বের হয়ে ঘরে জমে গেলে সামান্য আগুন বা স্ফুলিঙ্গ থেকেই বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটতে পারে। তাই সিলিন্ডার ব্যবহার থেকে শুরু করে সংরক্ষণ—সব ক্ষেত্রেই সতর্ক থাকা জরুরি।
কেন ঘটে গ্যাস সিলিন্ডারের দুর্ঘটনা?
বিস্ফোরণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৬০ লাখের বেশি মানুষ এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন। সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে বাজারে রয়েছে দুই কোটির বেশি সিলিন্ডার।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভালো মানের সিলিন্ডার সাধারণত গ্যাসের স্বাভাবিক চাপের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি চাপ সহ্য করতে পারে। তাই সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনা খুব বেশি নয়। তবে দুর্ঘটনার মূল কারণ হলো গ্যাস লিকেজ।
রেগুলেটর, পাইপ, ভালভ কিংবা সংযোগস্থলে সমস্যা হলে গ্যাস বের হয়ে ঘরের ভেতর জমতে পারে। পরে আগুন, চুলার শিখা বা সামান্য বৈদ্যুতিক স্ফুলিঙ্গের সংস্পর্শে এলে ঘটতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা।
সিলিন্ডার কেনার সময় যা দেখবেন
নিরাপদ ব্যবহারের প্রথম ধাপ হলো সঠিক সিলিন্ডার নির্বাচন করা। এজন্য—
১. অনুমোদিত বিক্রেতা বা বিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠানের সিলিন্ডার কিনতে হবে।
২. সিলিন্ডারের মেয়াদ পরীক্ষা করতে হবে।
৩. মেয়াদ শেষ হওয়া সিলিন্ডার ব্যবহার করা যাবে না।
৪. সেফটি ক্যাপ, সিল, রাবার রিং ও রেগুলেটর ঠিক আছে কি না দেখতে হবে।
৫. নিম্নমানের পাইপ বা যন্ত্রাংশ ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে হবে।
৬. নিরাপদে গ্যাস সিলিন্ডার ব্যবহারের নিয়ম
গ্যাস সিলিন্ডার সবসময় সোজা অবস্থায় রাখতে হবে। কখনো কাত করে বা উপুড় করে রাখা যাবে না। এটি সমতল জায়গায় রাখতে হবে এবং চুলা থেকে কিছুটা দূরে রাখা নিরাপদ।
সিলিন্ডার বন্ধ ক্যাবিনেটের ভেতরে বা চুলার নিচে রাখা উচিত নয়। এমন জায়গায় রাখতে হবে যেখানে বাতাস চলাচল করতে পারে। সরাসরি রোদ বা অতিরিক্ত তাপ থেকে দূরে রাখতে হবে।
রান্নাঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা থাকা জরুরি। জানালা খোলা রাখা বা বাতাস বের হওয়ার ব্যবস্থা থাকলে ঝুঁকি কমে।
নতুন সিলিন্ডার লাগানোর সময় অবশ্যই চুলা বন্ধ রাখতে হবে। পাশাপাশি মোমবাতি, হিটার বা অন্য কোনো আগুনের উৎস থেকে সিলিন্ডার দূরে রাখতে হবে।
সিলিন্ডারের আশপাশে ধূমপান করা বিপজ্জনক। এছাড়া সিলিন্ডারের ওপর কোনো ভারী জিনিস রাখা যাবে না।
রান্না শেষে শুধু চুলার নব বন্ধ করলেই হবে না, সিলিন্ডারের রেগুলেটরও বন্ধ করতে হবে।
গ্যাসের গন্ধ পেলেই যা করবেন
গ্যাসের গন্ধ পেলে আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত সতর্ক হতে হবে।
প্রথমে দরজা-জানালা খুলে দিতে হবে, যাতে গ্যাস বের হয়ে যেতে পারে। কোনো অবস্থাতেই ম্যাচ, লাইটার বা আগুন ব্যবহার করে লিকেজ পরীক্ষা করা যাবে না।
এ সময় কোনো বৈদ্যুতিক সুইচ চালু বা বন্ধ করা উচিত নয়। নিরাপদ জায়গায় গিয়ে সংশ্লিষ্ট বিক্রেতা বা কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।
বাড়তি নিরাপত্তায় রাখতে পারেন এসব সরঞ্জাম
বিশেষজ্ঞদের মতে, রান্নাঘরে গ্যাস শনাক্তকারী যন্ত্র, আগুন নেভানোর যন্ত্র এবং মোটা কম্বল বা অগ্নিনির্বাপক কাপড় রাখা উপকারী হতে পারে।
এলপিজি সিলিন্ডার সঠিক নিয়ম মেনে ব্যবহার করলে এটি নিরাপদ ও কার্যকর জ্বালানি। তবে ছোট একটি ভুলও বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। তাই সিলিন্ডার কেনা, সংরক্ষণ ও ব্যবহারের প্রতিটি ধাপে সতর্ক থাকাই সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা।
আরটিভি/জেএমএ