রোববার, ২১ জুন ২০২৬ , ১১:২৯ এএম
ছোটবেলার পাঠ্যবইয়ে পড়া দীর্ঘতম দিন ও দীর্ঘতম রাতের কথা অনেকেরই মনে আছে। আজ ২১ জুন, উত্তর গোলার্ধের জন্য বছরের সবচেয়ে বড় দিন। এদিন সূর্য আকাশে সবচেয়ে বেশি সময় অবস্থান করে, আর রাত হয় সবচেয়ে ছোট।
আজকের দিনে সূর্য থাকে কর্কটক্রান্তি রেখার কাছাকাছি। পৃথিবীর অক্ষ একটু হেলে থাকার কারণে সূর্যের চারপাশে ঘোরার সময় কখনো উত্তর গোলার্ধ সূর্যের দিকে বেশি ঝুঁকে যায়। ফলে এই অঞ্চলে সূর্যের আলো দীর্ঘ সময় ধরে পাওয়া যায়। আর এই কারণেই ২১ জুনকে বছরের দীর্ঘতম দিন বলা হয়।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এদিন সূর্যোদয় হয়েছে ভোর ৫টা ১২ মিনিটে এবং সূর্যাস্ত হয়েছে সন্ধ্যা ৬টা ৪৮ মিনিটে। অর্থাৎ এদিন দিনের দৈর্ঘ্য ছিল প্রায় ১৩ ঘণ্টা ৩৬ মিনিট।
পৃথিবীর নিয়ম অনুযায়ী, বছরের সব দিন সমান দৈর্ঘ্যের হয় না। কখনো দিন ছোট হয়, আবার কখনো বড় হয়। ২১ জুনের এই বিশেষ ঘটনাকে বলা হয় গ্রীষ্মকালীন অয়ন। সাধারণত ২০ থেকে ২৩ জুনের মধ্যে এই ঘটনা ঘটে।
পৃথিবীর ওপর দিয়ে কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তি নামে দুটি বিশেষ রেখা রয়েছে। এর মধ্যে কর্কটক্রান্তি রেখা ঠিক করে দেয় উত্তর গোলার্ধে দিনের দৈর্ঘ্য কতটা হবে। ২১ জুন দুপুরে সূর্যের অবস্থান থাকে এই রেখার কাছাকাছি।
এই দিনে উত্তর মেরু সূর্যের দিকে সবচেয়ে বেশি হেলে থাকে। তাই উত্তর গোলার্ধে সূর্যের আলো বেশি সময় ধরে পড়ে এবং দিন হয় দীর্ঘ। তবে দক্ষিণ গোলার্ধে ঘটে ঠিক উল্টো ঘটনা। সেখানে এদিন হয় বছরের সবচেয়ে ছোট দিন এবং দীর্ঘতম রাত।
মজার বিষয় হলো, ২১ জুন কিছু সময়ের জন্য নিজের ছায়াও দেখা যায় না। সূর্যের আলো যখন ঠিক মাথার ওপর থেকে পড়ে, তখন এমন বিস্ময়কর ঘটনা ঘটে।
বছরে দুবার এমন অয়ন ঘটে। ২১ জুনের পর উত্তর গোলার্ধে ধীরে ধীরে দিনের সময় কমতে শুরু করে এবং রাত বড় হতে থাকে। আবার ২২ ডিসেম্বর হয় বছরের সবচেয়ে ছোট দিন ও দীর্ঘতম রাত।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশেও এই দিনটি ঘিরে রয়েছে নানা আয়োজন। প্রাচীন ইউরোপের মানুষ এই সময়কে বিশেষ গুরুত্ব দিত। অনেক জায়গায় এই দিনের পর থেকেই নতুন ফসলের কাজ শুরু করা হতো।
প্রকৃতির এই নিয়ম আমাদের মনে করিয়ে দেয়, পৃথিবীর প্রতিটি পরিবর্তনের পেছনেই রয়েছে মহাকাশের নির্দিষ্ট নিয়ম আর অসাধারণ বিজ্ঞান।
আরটিভি/জেএমএ