মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬ , ০১:৩৭ পিএম
পুরুষরা যখন সুখে-শান্তিতে থাকেন, তখন নাকি নারীরা তা সহজে মেনে নিতে পারেন না। এমনই এক সম্পর্ক-বিষয়ক বিশেষজ্ঞের এই দাবি ঘিরে দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েছেন নেটিজেনরা।
সম্প্রতি একটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনের পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। ওই বিশেষজ্ঞের মতে, পুরুষের জীবনে যখন শান্ত, স্বস্তিদায়ক ও ঝামেলাহীন সময় আসে, তখন অনেক নারী অবচেতনভাবে ঝগড়া বা অশান্তির পরিবেশ তৈরি করেন। তার ভাষ্য, সম্পর্কে নিজের প্রভাব বজায় রাখা কিংবা সঙ্গীকে নিয়ন্ত্রণে রাখার প্রবণতা থেকেই এমন আচরণ দেখা যেতে পারে।
এই বক্তব্য সামনে আসার পর সামাজিক মাধ্যমে শুরু হয় তীব্র বিতর্ক। অনেক পুরুষ নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে এই তত্ত্বের সঙ্গে একমত হয়েছেন। তাদের দাবি, জীবনের সবচেয়ে শান্ত সময়গুলোতেই অকারণে নানা বিরোধের মুখোমুখি হতে হয়েছে।
অন্যদিকে বিপরীত মতও কম নয়। অসংখ্য নারী এই তত্ত্বকে একপেশে ও ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেছেন। তাদের মতে, সম্পর্কের জটিলতাকে নারী-পুরুষের প্রতিযোগিতা হিসেবে দেখানো ভুল এবং এটি পুরোনো মানসিকতার প্রতিফলন।
মনোবিজ্ঞানীদের একাংশও বলছেন, সম্পর্কের অশান্তির পেছনে সাধারণত যোগাযোগের ঘাটতি, মানসিক দূরত্ব কিংবা পারস্পরিক বোঝাপড়ার অভাব কাজ করে। শুধু একজনের সুখ দেখে অন্যজন ইচ্ছাকৃতভাবে সমস্যা তৈরি করেন— এমন ধারণার পক্ষে নির্ভরযোগ্য কোনো প্রমাণ নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি সুস্থ ও দীর্ঘস্থায়ী সম্পর্কের ভিত্তি হলো পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস ও বন্ধুত্ব। সম্পর্কে যখন সমালোচনা, অবহেলা কিংবা একে অপরকে না বোঝার প্রবণতা বাড়ে, তখনই দূরত্ব তৈরি হয়। সেটি কোনো নির্দিষ্ট লিঙ্গের কারণে নয়, বরং সম্পর্কের ভেতরের সমস্যার ফল।
আধুনিক যুগের দম্পতিরা নিজেদের সম্পর্কের নিয়ম নিজেরাই তৈরি করেন। তাই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া যে কোনো তত্ত্বকে অন্ধভাবে বিশ্বাস না করে খোলামেলা আলোচনা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়াকেই গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
তাই ‘পুরুষের সুখ সহ্য হয় না নারীদের’— এমন দাবি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলেও, সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ ও মনোবিজ্ঞানীদের বড় একটি অংশ এটিকে সর্বজনীন সত্য হিসেবে মানতে নারাজ। তাদের মতে, সুখী সম্পর্কের চাবিকাঠি কোনো তত্ত্ব নয়, বরং পারস্পরিক সম্মান ও বোঝাপড়া।
আরটিভি/জেএমএ