বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬ , ১২:১০ পিএম
আপনি মেসেজ করলেই সঙ্গে সঙ্গে জবাব আসে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথাও হয়। কিন্তু একটা বিষয় খেয়াল করেছেন? উল্টো দিকের মানুষটি অনেক সময়ই কখনও নিজে থেকে আগে মেসেজ করে না। এমন পরিস্থিতিতে অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে— তাহলে কি সে সত্যিই আগ্রহী নয়?
মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, বিষয়টি সব সময় এতটা সহজ নয়। আগে মেসেজ না করার পেছনে থাকতে পারে নানা মানসিক, ব্যক্তিগত ও সামাজিক কারণ।
সব মানুষের অনুভূতি প্রকাশের ধরন এক রকম নয়। কেউ সম্পর্কের প্রতি আগ্রহী হলেও স্বভাবগতভাবে কম উদ্যোগী হন। বিশেষ করে অন্তর্মুখী স্বভাবের মানুষ অনেক সময় নিজে থেকে কথা শুরু করতে অস্বস্তি বোধ করেন। তারা অপেক্ষা করেন অন্য কেউ যোগাযোগ করবে, তারপর স্বাভাবিকভাবে কথোপকথনে অংশ নেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আত্মবিশ্বাসের অভাব, প্রত্যাখ্যাত হওয়ার ভয় কিংবা অতিরিক্ত চিন্তা করার প্রবণতাও অনেককে প্রথমে মেসেজ পাঠানো থেকে বিরত রাখে। ফলে তারা কথা বলতে পছন্দ করলেও নিজে থেকে যোগাযোগ শুরু করতে চান না।
এছাড়া সামাজিক ও পারিবারিক ধারণারও প্রভাব থাকতে পারে। অনেকেই মনে করেন, আগে থেকে যোগাযোগ শুরু করলে নিজেকে বেশি আগ্রহী বা দুর্বল হিসেবে প্রকাশ করা হয়। তাই ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও তারা অপেক্ষা করেন।
তবে সম্পর্ক বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— আপনি যোগাযোগ করলে সে কীভাবে সাড়া দিচ্ছে। যদি দ্রুত জবাব দেয়, কথোপকথন চালিয়ে যেতে আগ্রহ দেখায়, প্রশ্ন করে এবং সময় দেয়, তাহলে সেটি ইতিবাচক ইঙ্গিত হতে পারে।
অন্যদিকে, একটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। কেউ আপনার মেসেজের জবাব দিলেই যে সম্পর্ককে গুরুত্ব দিচ্ছে, এমনটা সব সময় নাও হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে মানুষ শুধুমাত্র সৌজন্যবশত বা অভ্যাসবশত উত্তর দেয়, কিন্তু নিজে থেকে যোগাযোগ করার প্রয়োজন অনুভব করে না। তখন সম্পর্কের প্রতি আগ্রহ একতরফাও হতে পারে।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, কারও অনুভূতি বোঝার জন্য শুধু কে আগে মেসেজ করছে, সেটিকে একমাত্র মাপকাঠি বানানো ঠিক নয়। বরং তার সময় দেওয়া, মনোযোগ, কথাবার্তার ধরন এবং সামগ্রিক আচরণ একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
তাই আপনার পছন্দের মানুষটি আগে মেসেজ না করলেই যে তিনি আপনাকে অপছন্দ করেন, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছে যাওয়ার আগে তার পুরো আচরণটি বোঝার চেষ্টা করুন। অনেক সময় নীরবতার আড়ালেও লুকিয়ে থাকতে পারে আগ্রহ, আবার কখনও সেটিই হতে পারে দূরত্বের ইঙ্গিত।
আরটিভি/জেএমএ