শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬ , ১০:৪২ এএম
সন্তান নেওয়ার স্বপ্ন দেখেন অনেক দম্পতি। কিন্তু নানা শারীরিক কারণে সেই স্বপ্ন পূরণ হয় না সবার। এমন পরিস্থিতিতে অনেকের কাছেই আশার আলো হয়ে আসে কৃত্রিম প্রজনন চিকিৎসা (In Vitro Fertilization: IVF - আইভিএফ)। তবে এই চিকিৎসা শুরু করার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানা জরুরি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বন্ধ্যাত্ব বা সন্তান ধারণে সমস্যায় থাকা দম্পতিদের জন্য এই চিকিৎসা বিশ্বজুড়ে বহু পরিবারে নতুন আশা এনে দিয়েছে। তবে এটি ব্যয়বহুল, সময়সাপেক্ষ এবং জটিল একটি চিকিৎসা পদ্ধতি। তাই শুধু চিকিৎসা শুরু করলেই প্রথমবারেই সফলতা মিলবে— এমন ধারণা ঠিক নয়।
কীভাবে হয় এই চিকিৎসা?
এই চিকিৎসা কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন হয়।
প্রথমে হরমোনের মাধ্যমে নারীর ডিম্বাশয়কে উদ্দীপিত করা হয়, যাতে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ডিম্বাণু তৈরি হয়। এরপর একটি ছোট অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে পরিপক্ব ডিম্বাণু সংগ্রহ করা হয়।
পরে পরীক্ষাগারে ডিম্বাণুর সঙ্গে পুরুষের শুক্রাণুর মিলন ঘটিয়ে ভ্রূণ তৈরি করা হয়। কয়েক দিন পর সুস্থ ভ্রূণটি নারীর জরায়ুতে প্রতিস্থাপন করা হয়। এরপর প্রায় দুই সপ্তাহ অপেক্ষার পর পরীক্ষা করে জানা যায়, গর্ভধারণ সফল হয়েছে কি না।
প্রথমবারেই সফল হবে, এমন নয়
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চিকিৎসা নিয়ে সবচেয়ে বড় ভুল ধারণা হলো প্রথম চেষ্টাতেই সফলতা মিলবে। বাস্তবে সফলতার হার নির্ভর করে বয়স, শারীরিক অবস্থা, জীবনযাপন ও অন্যান্য স্বাস্থ্যগত বিষয়ের ওপর।
বিশেষ করে ৩৫ বছরের কম বয়সী নারীদের ক্ষেত্রে সফলতার সম্ভাবনা তুলনামূলক বেশি। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ডিম্বাণুর সংখ্যা ও গুণগত মান কমে যায়। ফলে চিকিৎসাও আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।
জীবনযাপনের অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ
চিকিৎসকরা বলছেন, ধূমপান, মদ্যপান, অতিরিক্ত ওজন, অনিয়ন্ত্রিত ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের সমস্যা এবং দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ ডিম্বাণু ও শুক্রাণুর গুণগত মান কমিয়ে দিতে পারে।
তাই চিকিৎসা শুরু করার অন্তত দুই থেকে তিন মাস আগে স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন, সুষম খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।
মানসিক প্রস্তুতিও জরুরি
এই চিকিৎসা শুধু শারীরিক নয়, মানসিকভাবেও একটি বড় যাত্রা। হরমোনের পরিবর্তন, দীর্ঘ অপেক্ষা এবং ব্যর্থতার আশঙ্কা অনেক দম্পতির মধ্যে উদ্বেগ ও হতাশা তৈরি করতে পারে।
এ কারণে চিকিৎসা শুরুর আগে পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা নেওয়া এবং প্রয়োজন হলে মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা পরামর্শকের সহায়তা নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
সচেতনতাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চিকিৎসা বহু নিঃসন্তান দম্পতির জীবনে সুখের বার্তা নিয়ে এলেও এটি কোনো নিশ্চিত সমাধান নয়। তাই চিকিৎসা শুরুর আগে এর সফলতা, সীমাবদ্ধতা, ব্যয় এবং মানসিক প্রস্তুতি— সব বিষয় সম্পর্কে জেনে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
এছাড়া চিকিৎসকের পরামর্শ অনু্যায়ী চিকিৎসা নিতে হবে।
আরটিভি/জেএমএ