শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬ , ১১:১৭ এএম
ছোটবেলা থেকেই আমাদের শেখানো হয়, প্রতিদিন দুধ খেলে হাড় শক্ত থাকে। দুধে থাকা ক্যালশিয়াম যে হাড়ের জন্য উপকারী, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে শুধু বেশি দুধ খেলেই হাড় ক্ষয়জনিত রোগ থেকে পুরোপুরি সুরক্ষা পাওয়া যায়— এমন ধারণা ঠিক নয় বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশ্বজুড়ে বয়স্কদের হাড় ভেঙে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো হাড় ক্ষয়জনিত রোগ। এই রোগে শরীর নতুন হাড় যথেষ্ট পরিমাণে তৈরি করতে পারে না বা পুরোনো হাড় দ্রুত ক্ষয় হতে থাকে। ফলে ধীরে ধীরে হাড়ের ঘনত্ব কমে যায় এবং সামান্য আঘাতেও হাড় ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
দুধে ক্যালশিয়ামের পাশাপাশি ফসফরাস, প্রোটিন এবং অনেক ক্ষেত্রে ভিটামিন ডি থাকে, যা শরীরে ক্যালশিয়াম শোষণে সাহায্য করে। তাই সুষম খাদ্যতালিকায় দুধের গুরুত্ব রয়েছে। তবে চিকিৎসকদের মতে, শরীর নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি ক্যালশিয়াম ব্যবহার করতে পারে না। তাই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি দুধ খেলেই অতিরিক্ত উপকার মিলবে, এমনটি নয়।
অনেকেই মনে করেন, প্রতিদিন কয়েক গ্লাস দুধ খেলেই হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি পুরোপুরি দূরে রাখা সম্ভব। কিন্তু বাস্তবে হাড়ের স্বাস্থ্য শুধু ক্যালশিয়ামের ওপর নির্ভর করে না। অতিরিক্ত দুধের ওপর নির্ভরশীলতা অনেক সময় অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার কম খাওয়ার কারণ হতে পারে। এতে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টির ভারসাম্যও নষ্ট হতে পারে।
এছাড়া যাদের দুধ হজমের সমস্যা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত দুধ খেলে পেট ফাঁপা, পেটব্যথা বা পাতলা পায়খানার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই দুধকে সুষম খাদ্যের একটি অংশ হিসেবেই খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
চিকিৎসকদের মতে, শুধু দুধ নয়, হাড় শক্ত রাখতে নিয়মিত হাঁটা, দৌড়ানো, নাচ, সিঁড়ি ভাঙা এবং ওজন বহনের শরীরচর্চা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ক্যালশিয়াম, ভিটামিন ডি ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবারও নিয়মিত খেতে হবে।
ধূমপান ও অতিরিক্ত মদ্যপান দীর্ঘদিনে হাড়কে দুর্বল করে দিতে পারে। তাই এসব অভ্যাস থেকে দূরে থাকার পাশাপাশি নিয়মিত রোদে থাকা, স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া এবং সক্রিয় জীবনযাপন হাড় ভালো রাখার জন্য জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাড় ক্ষয় রোধে কোনো একক খাবার বা পানীয়ই অলৌকিক সমাধান নয়। বরং সুষম খাদ্য, নিয়মিত শরীরচর্চা, পর্যাপ্ত ক্যালশিয়াম ও ভিটামিন ডি গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন— সবকিছুর সমন্বয়েই দীর্ঘদিন হাড়কে শক্ত ও সুস্থ রাখা সম্ভব। দুধ সেই পথের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ, তবে একমাত্র ভরসা নয়।
আরটিভি/জেএমএ