images

লাইফস্টাইল

মা-বাবার বার্ধক্য কেন এত কষ্ট দেয়? 

মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬ , ০২:২৭ পিএম

ছোটবেলায় বাবা-মায়ের বকুনি শুনে অনেকেরই রাগ হতো। মনে হতো, কবে যে বড় হব। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই ভাবনা বদলে যায়। বয়স বাড়ার পর একসময় মনে হয়, সেই বকুনিটাই যেন সবচেয়ে বেশি মিস করি। কারণ তখন বুঝতে শুরু করি, বাবা-মাও ধীরে ধীরে বয়সের ভারে নুয়ে পড়ছেন। আর এই উপলব্ধিই অনেকের মনে অদ্ভুত এক কষ্টের জন্ম দেয়।

মনোবিদদের মতে, ছোটবেলা থেকে আমরা বাবা-মাকে সবচেয়ে শক্তিশালী মানুষ হিসেবেই দেখে বড় হই। মনে হয়, তাঁরা সব সমস্যার সমাধান করতে পারেন। জীবনের যেকোনো কঠিন সময়ে তাঁরাই সবচেয়ে বড় ভরসা। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যখন সেই মানুষগুলোরই চলাফেরা ধীর হয়ে আসে, শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে কিংবা তাঁরা সন্তানের ওপর নির্ভর করতে শুরু করেন, তখন সেই পরিচিত ছবিটা বদলে যায়। আর এই পরিবর্তনই অনেকের কাছে মানসিকভাবে মেনে নেওয়া কঠিন হয়ে ওঠে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই অনুভূতির একটি মানসিক ব্যাখ্যাও রয়েছে। একে বলা হয় 'অস্পষ্ট হারানোর অনুভূতি'। অর্থাৎ মানুষটি আমাদের কাছেই আছেন, কিন্তু ধীরে ধীরে বয়সের কারণে বদলে যাচ্ছেন। তাই এই সময়ে একই সঙ্গে দুঃখ, ভয়, অপরাধবোধ এবং এক ধরনের শূন্যতা কাজ করতে পারে।

আরও পড়ুন
Web-Image

ঘরেই ফিরবে সোনার গয়নার হারানো ঝলক 

আরও একটি কারণ হলো, বাবা-মায়ের বয়স বাড়তে দেখা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, তাঁরা চিরদিন আমাদের সঙ্গে থাকবেন না। এই উপলব্ধি অনেকের মনকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দেয়। তখন ছোটবেলার অসংখ্য স্মৃতি, তাঁদের ভালোবাসা, শাসন আর যত্ন নতুন করে মনে পড়ে।

তবে মনোবিদদের মতে, এই কষ্টকে দুর্বলতা ভাবার কোনো কারণ নেই। বরং এটি প্রমাণ করে, বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানের সম্পর্ক কতটা গভীর এবং আবেগপূর্ণ।

জীবনের নিয়মেই সময় বদলায়, বদলায় সম্পর্কের ভূমিকা। একসময় বাবা-মা সন্তানের হাত ধরে পথ চলতে শেখান। বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই সন্তানই হয়ে ওঠে তাঁদের সবচেয়ে বড় ভরসা। এই পরিবর্তনই জীবনের স্বাভাবিক বাস্তবতা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাই বাবা-মায়ের সঙ্গে যতটা সম্ভব সময় কাটানো, তাঁদের কথা মন দিয়ে শোনা, প্রয়োজনের সময় পাশে থাকা এবং ভালোবাসা প্রকাশ করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সময় একবার চলে গেলে তা আর ফিরে আসে না। জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান স্মৃতিগুলো তৈরি হয় এই ছোট ছোট মুহূর্ত থেকেই।


আরটিভি/জেএমএ