images

লাইফস্টাইল

যেসব খাবার খেলে বাড়াতে পারে অ্যাজমার সমস্যা

শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬ , ০৯:৪০ পিএম

অ্যাজমায় আক্রান্ত অনেকের মনেই প্রশ্ন থাকে—কিছু খাবার কি তাদের শ্বাসকষ্টের সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে? বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবার অ্যাজমার সরাসরি কারণ নয়। তবে নির্দিষ্ট কিছু খাবার সংবেদনশীল ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে উপসর্গ বাড়াতে পারে, আবার কিছু স্বাস্থ্যকর খাবার ফুসফুসের সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক হতে পারে। তাই কোন খাবার উপকারী আর কোনটি এড়িয়ে চলা উচিত, সে সম্পর্কে সচেতন থাকলে অ্যাজমা নিয়ন্ত্রণ সহজ হতে পারে।

কোন খাবার অ্যাজমার উপসর্গ বাড়াতে পারে?

অ্যাজমা একটি দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসনালীর রোগ, যেখানে শ্বাসনালীতে প্রদাহ ও সংকোচনের কারণে শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। যদিও খাদ্যাভ্যাস এই রোগের কারণ নয়, কিছু মানুষের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট খাবার উপসর্গের ট্রিগার হিসেবে কাজ করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, যাদের সালফাইটে সংবেদনশীলতা রয়েছে, তাদের শুকনো ফল, ওয়াইন বা কিছু প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা উচিত। একইভাবে, প্রিজারভেটিভযুক্ত প্রক্রিয়াজাত মাংস—যেমন হট ডগ, সসেজ, হ্যাম, পেপারোনি বা টিনজাত মাংস—সীমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো। এছাড়া দুধ, ডিম, চিনাবাদাম, শেলফিশ বা অন্য যেসব খাবারে ব্যক্তিগতভাবে অ্যালার্জি হয়, সেগুলো এড়িয়ে চলাই নিরাপদ।

চিকিৎসকদের মতে, নিজের অ্যাজমার ট্রিগারগুলো শনাক্ত করে সেগুলো থেকে দূরে থাকলে রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা অনেক সহজ হয়।

খাদ্যাভ্যাসের প্রভাব নিয়ে কী বলছে গবেষণা?

আরও পড়ুন
shad-photo

ফ্রিজে খাবার সংরক্ষণে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করুন বর্ষাকালে

২০২০ সালে Nutrition Reviews সাময়িকীতে প্রকাশিত একটি পর্যালোচনায় দেখা গেছে, উদ্ভিদভিত্তিক স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস শরীরের প্রদাহ ও জারণজনিত চাপ কমাতে এবং অন্ত্রের উপকারী জীবাণুর ভারসাম্য বজায় রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে। এর ফলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে অ্যাজমার উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব দেখা যেতে পারে।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, প্রতিদিন পর্যাপ্ত ফল ও শাকসবজি খাওয়া, প্রাণিজ খাবার তুলনামূলক কম গ্রহণ এবং স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার অস্বাভাবিক প্রতিক্রিয়া কমাতে সহায়তা করতে পারে।

ফুসফুসের সুস্থতায় যেসব খাবার উপকারী

ফুসফুসের সুস্থতা বজায় রাখতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ ফল ও শাকসবজি রাখা উপকারী। বেরি, কমলা, পালং শাক, ব্রোকলি ও গাজরের মতো খাবার প্রদাহ কমাতে সহায়তা করতে পারে। পাশাপাশি স্যামন, সার্ডিন, আখরোট ও ফ্ল্যাক্স সিডের মতো ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ খাবারও উপকারী বলে মনে করা হয়।

এছাড়া ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার, পূর্ণ শস্য, ডাল এবং ম্যাগনেসিয়ামসমৃদ্ধ খাবার—যেমন বিভিন্ন ধরনের শাকসবজি ও কুমড়ার বীজ—সুষম খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে রাখা যেতে পারে। তবে খাদ্যাভ্যাস কখনোই অ্যাজমার চিকিৎসার বিকল্প নয়। উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ গ্রহণ এবং নিয়মিত ফলোআপই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আরটিভি/এমএস