images

লাইফস্টাইল

কোষ্ঠকাঠিন্যের অবসান ঘটায় যে ১১টি ঘরোয়া উপায়

সোমবার, ০৬ জুলাই ২০২৬ , ১১:৩৮ এএম

কোষ্ঠকাঠিন্য বর্তমানে খুবই সাধারণ একটি সমস্যা। অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, কম পানি পান, ব্যস্ত জীবনযাপন এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার কারণে অনেকেই এ সমস্যায় ভোগেন। এতে শুধু শারীরিক অস্বস্তিই নয়, মানসিক চাপও বাড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে জীবনযাত্রা ও খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনলেই কোষ্ঠকাঠিন্য অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। এ জন্য কিছু সহজ ও বৈজ্ঞানিকভাবে সমর্থিত ঘরোয়া উপায় অনুসরণ করা যেতে পারে।

পর্যাপ্ত পানি পান

শরীরে পানির ঘাটতি হলে মল শক্ত হয়ে যায়। তাই নিয়মিত পর্যাপ্ত পানি পান করলে অন্ত্রের কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকে এবং মলত্যাগ সহজ হয়।

ফাইবারসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া

শাকসবজি, ফল, ডাল ও শস্যজাত খাবারে থাকা ফাইবার মল নরম করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে সলিউবল ফাইবার কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে বেশি কার্যকর।

নিয়মিত ব্যায়াম

হাঁটা, সাইক্লিং কিংবা হালকা ব্যায়াম অন্ত্রের নড়াচড়া বাড়ায়। এতে মলত্যাগ সহজ হয়।

কফি পান

ক্যাফেইন অন্ত্রকে উদ্দীপিত করে। ফলে অনেকের ক্ষেত্রে কফি পান করার পর দ্রুত মলত্যাগের প্রবণতা দেখা যায়।

প্রোবায়োটিক খাবার

দই, কিমচি কিংবা সাউয়ারক্রাউটের মতো খাবার অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে, যা হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে।

ল্যাক্সেটিভ ওষুধ

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী স্টুল সফটনার বা ওসমোটিক ল্যাক্সেটিভ ব্যবহার করা যেতে পারে। তবে দীর্ঘদিন নিজে নিজে ওষুধ খাওয়া ঠিক নয়।

গ্লুকোম্যানান বা শিরাটাকি নুডলস

এটি এক ধরনের সলিউবল ফাইবার, যা অন্ত্রের কার্যক্রম উন্নত করতে এবং মল নরম রাখতে সহায়তা করে।

প্রিবায়োটিক খাবার

রসুন, পেঁয়াজ, কলা, ডাল ও বিভিন্ন সবজিতে থাকা প্রিবায়োটিক উপাদান অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।

ম্যাগনেসিয়াম সাইট্রেট

এটি একটি সহজলভ্য সাপ্লিমেন্ট, যা অন্ত্রে পানি টেনে এনে মল নরম করে এবং দ্রুত মলত্যাগে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন
shad-photo

কেমিক্যাল দিয়ে পাকানো কলা চিনবেন যেভাবে

প্রুনস বা শুকনো বরই

প্রুনসে থাকা সরবিটল প্রাকৃতিক ল্যাক্সেটিভ হিসেবে কাজ করে। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে বেশ কার্যকর।

দুধজাত খাবার কম খাওয়া

যাঁদের ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে দুধজাত খাবার কোষ্ঠকাঠিন্য বাড়াতে পারে। তাই সমস্যা হলে দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার কমিয়ে দেখা যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোষ্ঠকাঠিন্য সাধারণ সমস্যা হলেও দীর্ঘদিন অবহেলা করলে তা জটিল আকার নিতে পারে। তাই সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান এবং নিয়মিত ব্যায়ামের মাধ্যমে এ সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

আরটিভি/এমএস