রোববার, ১২ জুলাই ২০২৬ , ০৩:০৭ পিএম
বর্ষাকালে বাতাসে আর্দ্রতা বেড়ে যাওয়ায় অনেক জিনিসই সহজে শুকাতে চায় না। এর মধ্যে অন্যতম হলো স্নানের সময় ব্যবহৃত লুফা (শরীর মাজনী)। ঠিকমতো পরিষ্কার ও শুকিয়ে না রাখলে লুফায় দ্রুত ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক ও অন্যান্য জীবাণু জন্ম নিতে পারে। আর সেই লুফা ব্যবহার করলে ত্বকে র্যাশ, চুলকানি, ব্রণ কিংবা ছত্রাকজনিত সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই বর্ষায় লুফার যত্নে বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রতিবার গোসলের পর লুফা ভালোভাবে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। এতে সাবান, ত্বকের মৃত কোষ ও ময়লা সহজেই দূর হয়ে যায়। এরপর অতিরিক্ত পানি ঝরিয়ে এমন জায়গায় ঝুলিয়ে রাখতে হবে, যেখানে বাতাস চলাচল করে। ভেজা অবস্থায় বাথরুমের ভেতরে ফেলে রাখলে জীবাণু দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে।
শুধু ধুয়ে রাখাই যথেষ্ট নয়। সপ্তাহে অন্তত একবার লুফা জীবাণুমুক্ত করাও জরুরি। এ জন্য কয়েক মিনিট গরম পানিতে ভিজিয়ে রাখা যেতে পারে। চাইলে জীবাণুনাশক বা সাদা ভিনিগার মেশানো পানিতেও পরিষ্কার করা যায়। এতে লুফায় জমে থাকা জীবাণু ও ছত্রাকের বৃদ্ধি অনেকটাই কমে।
একটি লুফা দীর্ঘদিন ব্যবহার করাও ঠিক নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণভাবে একটি কৃত্রিম লুফা ছয় থেকে আট সপ্তাহের বেশি ব্যবহার না করাই ভালো। যদি দুর্গন্ধ, রং পরিবর্তন বা কালচে দাগ দেখা যায়, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে সেটি বদলে নতুন লুফা ব্যবহার করা উচিত।
একই লুফা একাধিক ব্যক্তি ব্যবহার করা থেকেও বিরত থাকতে হবে। পরিবারের সদস্য হলেও আলাদা লুফা ব্যবহার করা স্বাস্থ্যসম্মত। কারণ একজনের ত্বকের জীবাণু বা ছত্রাক অন্যজনের শরীরে সহজেই ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এছাড়া শরীরে কাটা-ছেঁড়া, ফুসকুড়ি, র্যাশ বা অন্য কোনো ত্বকের সংক্রমণ থাকলে সেই স্থানে লুফা ব্যবহার না করাই ভালো। এতে সংক্রমণ আরও বাড়তে পারে এবং ক্ষত শুকাতে বেশি সময় লাগতে পারে। ত্বক পুরোপুরি সুস্থ হওয়ার পর আবার লুফা ব্যবহার করা নিরাপদ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষাকালে ত্বক সুস্থ রাখতে শুধু ভালো প্রসাধনী ব্যবহার করলেই হবে না, গোসলের সামগ্রীও পরিষ্কার রাখতে হবে। লুফার নিয়মিত পরিচর্যা ও সময়মতো পরিবর্তনের অভ্যাস ত্বককে সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
আরটিভি/জেএমএ