images

লাইফস্টাইল / স্বাস্থ্য পরামর্শ

বৃষ্টিতে কফি খাওয়ার উপকারিতা

শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬ , ০৯:১৭ পিএম

ঝুম বৃষ্টি আর এক কাপ ধোঁয়া ওঠা গরম কফি বাঙালি মধ্যবিত্তের নস্টালজিয়া আর রোমান্টিকতার এক অদ্ভুত মিশেল। জানালার গ্রিল ছুঁয়ে আসা বৃষ্টির ছাঁট, মাটির সোঁদা গন্ধ আর হাতে ধরা মগের উষ্ণতা যেন মুহূর্তেই চারপাশের ব্যস্ততাকে থমকে দেয়।

​বৃষ্টির দিনে কফি খাওয়ার এই অভ্যাস কেবল মন ভালো করার রসদ যোগায় না, এর পেছনে রয়েছে কিছু দারুণ মনস্তাত্ত্বিক ও শারীরিক উপকারিতাও।

চলুন জেনে নেওয়া যাক বৃষ্টির দিনে কফি কেন আমাদের এত প্রিয় এবং এর ইতিবাচক দিকগুলো:

মন ও মেজাজ চনমনে করতে অনন্য
​বৃষ্টির দিনে আকাশ মেঘলা থাকায় প্রকৃতিতে আলোর স্বল্পতা থাকে। বিজ্ঞান বলে, সূর্যালোকের অভাবে আমাদের শরীরে ‘মেলানিন’ ও ‘সেরোটোনিন’ হরমোনের ভারসাম্যে তারতম্য ঘটে, যা অনেক সময় একঘেয়েমি বা বিষণ্ণতা  তৈরি করে। কফিতে থাকা ক্যাফেইন মস্তিষ্কে ডোপামিন ও নর-এপিনেফ্রিন হরমোনের নিঃসরণ বাড়ায়। ফলে ঝুম বৃষ্টির অলস দুপুরেও এক কাপ কফি নিমেষেই আপনার মেজাজ ফুরফুরে করে তুলতে পারে।

বৃষ্টির অলসতা কাটিয়ে কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি
​বাইরে যখন একটানা বৃষ্টি চলে, তখন বিছানা ছেড়ে উঠতে কারই বা মন চায়? শরীর ও মনের এই অলসতা কাটাতে কফির জুড়ি নেই। কফির ক্যাফেইন কেন্দ্রীয় স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে, যার ফলে শরীরের ক্লান্তি ভাব দূর হয় এবং মনোযোগের ক্ষমতা বাড়ে। বিশেষ করে যারা বৃষ্টির দিনেও ঘরে বসে অফিসের কাজ করছেন, তাদের জন্য কফি দারুণ এক ‘এনার্জি বুস্টার’।

ROSHNI_2

রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট
​বর্ষাকালে আবহাওয়া পরিবর্তনের কারণে সর্দি, কাশি বা ফ্লু-এর মতো ছোটখাটো রোগব্যালাই লেগেই থাকে। কফিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট এবং পলিফেনল রয়েছে, যা শরীরের প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন কমাতে সাহায্য করে। ব্ল্যাক কফি বা সামান্য আদা-দারুচিনি মেশানো কফি এই সময়ে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে কিছুটা হলেও চাঙ্গা রাখতে পারে।

শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ও আরামের অনুভূতি
​বৃষ্টির সময় চারপাশের তাপমাত্রা হুট করেই বেশ কিছুটা কমে যায়। ঠান্ডা এই আবহাওয়ায় গরম কফির কাপে চুমুক দিলে তা শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বজায় রাখতে সাহায্য করে। কফির উষ্ণতা রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে ভূমিকা রাখে, যা আপনাকে দেয় এক পরম আরামের অনুভূতি।

একটি ছোট্ট টিপস:
বৃষ্টির আমেজ উপভোগ করতে গিয়ে দিনে ৩-৪ কাপের বেশি কফি না খাওয়াই ভালো। অতিরিক্ত ক্যাফেইন আবার রাতের ঘুমে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। আর চিনি ও ক্রিমের পরিমাণ যত কম রাখা যায়, কফির স্বাস্থ্যগুণ তত বেশি বজায় থাকে।

​জানালার পাশে বসে বৃষ্টির রিনিঝিনি শব্দ শুনতে শুনতে ধোঁয়া ওঠা কফির কাপে চুমুক দেওয়া কেবল শরীরের তৃপ্তি নয়, এটি এক ধরণের মানসিক থেরাপিও বটে। তাই আগামী বৃষ্টির দিনটিতে সব ব্যস্ততা একপাশে সরিয়ে রেখে নিজের জন্য তৈরি করে নিন এক কাপ মনের মতো কফি!

আরটিভি/এসকে